আনিসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ৩০, ২০২২

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র আনিসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৩০ নভেম্বর।২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডনে যান আনিসুল হক। সেখানে তিনি সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহ) আক্রান্ত হন। ১৩ আগস্ট তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে মারা যান তিনি।

মেয়র আনিসুল হক ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তা এবং টেলিভিশনের জনপ্রিয় উপস্থাপক।

ৱপ্রয়াত মেয়রের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার নগরীর বিভিন্ন এতিমখানায় চার হাজার এতিমের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আনিসুল হকের গ্রামের বাড়িতেও কয়েকটি এতিমখানায় খাবার বিতরণ করা হবে। সেখানকার মসজিদে বাদ জোহর তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার বনানী কবরস্থানে তার কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন আনিসুল হকের স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা।

প্রসঙ্গত, আনিসুল হক ২০১৫ সালে ডিএনসিসির মেয়র নির্বাচিত হন। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়ে আলোচিত ও প্রশংসিত হন তিনি।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর তেজগাঁওয়ে ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে চালকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরে তার নেতৃত্বে ডিএনসিসি ওই সড়ক দখলমুক্ত করে। এ ঘটনায় তিনি রাতারাতি দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পান।

এছাড়া মেয়র নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই তিনি ঢাকা শহর থেকে সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেন, যা সাধারণ নগরবাসীর কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। তার চেষ্টায় বিভিন্ন এলাকার দখল করা পার্কগুলো একের পর এক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শহরের পথচারীদের জন্য আধুনিক টয়লেট নির্মাণ করেন।

গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ঢাকা চাকা নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসসেবা চালু করেন আনিসুল হক।

এছাড়া ঢাকার দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। তার নির্দেশে বনানীর ২৭ নম্বরে যুদ্ধাপরাধী মোনায়েম খানের বাড়ি ‘বাগ এ মোনায়েম’-এর অবৈধ দখলে থাকা অংশ উদ্ধার করে সড়ক প্রশস্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কবিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন আনিসুল হক।