রাউজানে স্কুলছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও!

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১৩, ২০২২

চট্টগ্রামের রাউজানে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে।

জানাগেছে, গত রাতে মেহেদী অনুষ্ঠান শেষে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) কমিউনিটি সেন্টারে ছিল বিয়ের আয়োজন। খাবার-দাবার সব প্রস্তুত। দুপুর থেকে বিকেল অবধি দু’শ বরযাত্রীর খাওয়া-দাওয়া, বর-কনের মালা বদল আর দু’পরিবারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার জন্য সবকিছু প্রস্তুত। কিন্তু মেহমান, বর-কনে আসার আগে কমিউনিটি সেন্টারে হাজির হলেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর তিনি ভেঙে দিলেন বিয়েটি। তাতে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ওই স্কুলছাত্রী। এই ঘটনায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে বরকে।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পূর্বগুজরা ইউনিয়নের এন.এস পার্ক নামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ বিয়ের আয়োজন চলছিল। বর ছিলেন ৭ নম্বর রাউজান ইউনিয়নের নাতোয়ান বাগিছা জানে আলম চেয়ারম্যান বাড়ির কামাল উদ্দিনের ওমান প্রবাসী ছেলে মো. মোরশেদুল আলম। কনে ছিল পূর্বগুজরা ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের ফজল করিমের মেয়ে স্থানীয় অগ্রসার অনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিমলা আক্তার। কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় এ বাল্যবিয়ের গোপন সংবাদ পান উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সামাদ শিকদার। খবর পেয়ে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এন. এস পার্কে হাজির হন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, পূর্ব গুজরা ইউপি সদস্য দিদারুল আলম এবং পুলিশ-আনসার। এরপর তিনি সেখানে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে তিনি ৭ নম্বর রাউজান ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বর মোরশেদুল আলম ও তার পরিবারকে ডেকে পাঠান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সামাদ শিকদার বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাৎক্ষণিক ওই বাল্যবিয়ে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। মেয়ের অভিভাবক থেকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিবে না মর্মে অঙ্গীকারনামা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বর মোরশেদুল আলমকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তিনি ভবিষ্যতে আর কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করবে না মর্মে মুচলেখা দেন।’

৭ নম্বর রাউজান ইউপির চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু ও পূর্ব গুজরা ইউপির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কনে দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০০৭ সালে তার জন্ম হয়েছে। এখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর ৮ মাস ১১দিন। বর-কনে অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে কোর্ট ম্যারেজ করেছিল বলে দাবি করেছিলেন। সেটা ভ্রাম্যামাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আমলে নেননি।’

Loading