জাতির জনকের প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

ওবায়দুল কবির

মানুষের ভাগ্য বদলানোর সংগ্রামে আত্মত্যাগের আলোকোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি। সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা, নৈতিকতা এবং মানবিকতা তার সৌন্দর্য। সাহসিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মানুষের কল্যাণে আপোসহীনতা তার রাজনীতির অলঙ্কার। মৃত্যুর হাতছানি তিনি অবজ্ঞা করতে পারেন সহজে। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিলিয়ে দিয়ে দেশের জন্য এগিয়ে যেতে পারেন ভয়হীন চিত্তে।

মানুষের প্রতি গভীর ভালবাসা ও নিখাদ দেশপ্রেম তাঁকে পরিণত করেছে সফল রাষ্ট্রনায়কে। জীবনের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে শুধু সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে একাগ্র তার চিত্ত। দক্ষতা, উন্নয়ন অভিযাত্রায় সাফল্য এবং মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি স্থান করে নিয়েছেন বাঙালীর হৃদয়ের গভীরে। প্রাণান্ত চেষ্টায় সীমাহীন অর্জনে বিশে^র বিস্ময় তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি শেখ হাসিনা। আজ এই মহীয়সী মানবীর জন্মদিন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সামনে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। অগ্রজ সাংবাদিকদের কাছে তার অনেক গল্প শুনেছি। তার উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনাকে খুব কাছে থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দেখা এবং জানার সৌভাগ্য হয়েছে। ১৩টি বছর সরাসরি তার সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত থেকেছি। দেশের এমন কোন জেলা-উপজেলা নেই, যেখানে তার সঙ্গে যাওয়া হয়নি। রাজধানীসহ দেশের কোন স্থানে এমন কোন কর্মসূচী নেই, যেখানে উপস্থিত থাকিনি। পরে আরও ১৬ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার কারনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বঙ্গবন্ধুকে জেনে, শেখ হাসিনাকে দেখে নির্দ্বিধায় বলা যায়, তিনিই পিতার যোগ্য উত্তরসূরি, যথার্থ প্রতিচ্ছবি।

বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে গিয়ে কারও পক্ষেই তার স্নেহ-ভালবাসায় বাঁধা না পড়ে উপায় ছিল না। এক ধরনের সম্মোহনী শক্তি ছিল তার মধ্যে। যাকে ইংরেজীতে বলে ক্যারিশমা। এই গুণের মাধ্যমেই তিনি পেরেছিলেন সাড়ে সাত কোটি মানুষকে এক সুতায় গাঁথতে। ৭ মার্চ একটি মাত্র ঘোষণায় বাঙালী জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর এই অসাধারণ গুণের সঙ্গে ছিল গভীর দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালবাসা। দেশকে, দেশের মানুষকে ভালবাসতেন মনের গভীর থেকে। এই ভালবাসা তাকে করে তুলেছিল সাহসী ও সংগ্রামী জননেতা।

বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামে তাই হাসিমুখে সহ্য করেছেন জেল, জুলুম, নির্যাতন। তার স্বপ্ন ছিল স্বাধীন বাংলা, সমৃদ্ধ বাঙালী জাতি। ধ্যান-জ্ঞান ছিল বাঙালী জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। খাঁটি দেশপ্রেম, গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের ভাগ্য বদলানোর সংগ্রাম বঙ্গবন্ধুকে গড়ে তুলেছিল বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মতোই তার উত্তরসূরি শেখ হাসিনার গভীর দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। মানুষের ভাগ্য বদলানোর সংগ্রামে কতটা আত্মত্যাগ করা যায় তার উজ্জল দৃষ্টান্ত তিনি। বারবার জীবনের ওপর আঘাত এসেছে।

মৃত্যুর মুখ থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন। দমে যানটি একটুও। দ্বিগুণ গতিতে এগিয়েছেন তার লক্ষ্যের দিকে। সাহসিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, একাগ্র থেকেছেন তাদের ভাগ্য বদলানোর সংগ্রামে। বাঙালী জাতিকে বঙ্গবন্ধু উপহার দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ। শেখ হাসিনা দিয়েছেন উন্নয়ন। তাইতো বাঙালী জাতির পিতার ছায়া খুঁজে পান তার কন্যার মাঝে।

সেই থেকে শুরু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রথম কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ২৯ এপ্রিল। তখন তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেত্রী। গোপালগঞ্জে একটি সমাবেশে বক্তৃতা করতে যাবেন তিনি। আওয়ামী লীগ বিটের দায়িত্বে থাকায় দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বও আমার ওপর। তখন সাংবাদিকতা মাত্র শুরু করেছি। কারও সঙ্গেই তেমন একটা পরিচয় হয়ে উঠেনি। শুনলাম ঢাকা থেকে সাংবাদিক নিয়ে যাবেন কয়েকজন।

আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে গোপালগঞ্জ যাওয়া। সকালে ৭টার মধ্যে হাজির হয়ে গেলাম ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেত্রীর বাসভবনে। ওখান থেকেই শুরু হবে যাত্রা। তখনও সেখানে কাউকে চিনি না, কেউ আমাকেও চিনে না। মৃণাল কান্তি দাস (সবার প্রিয় মৃণাল দা, বর্তমানে সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক) তখন সাংবাদিকদের দেখাশোনার দায়িত্বে। তার কাছে পরিচয় দিলাম। তিনি বেশ আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানালেন।

খুব অল্প সময় হলেও ততদিনে জনকণ্ঠ আলোচিত পত্রিকা হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের একটি চরিত্রও হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। মনে হলো, আমাকে পেয়ে মৃণাল দা বেশ খুশিই হয়েছেন। নাস্তা খেয়েছি কি না জিজ্ঞেস করলেন। চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। তখন হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা ছিল। টিভি চ্যানেল এসেছে আরও অনেক পরে। সব মিলিয়ে ৬/৭ জন রিপোর্টার এবং ২/৩ জন ফটোগ্রাফারের একটি সাংবাদিক দল। দুটো মাইক্রো বাস।

একটির চালক প্রয়াত শাহজাহান এবং অপরটি চালাতেন আলী হোসেন। ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেত্রীর বাসায় থাকতেন শেখ হাসিনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের সময় জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করে মিন্টো রোডের সরকারী বাসাও ছেড়ে দিয়ে তিনি উঠেছিলেন তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ধানমণ্ডির বাসা সুধা সদনে।

গাড়িতে ওঠার সময় নতুন হিসেবে আমার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখলেন মৃণাল দা। পুরো সফরে আমি তার বিশেষ তত্বাবধানে ছিলাম। পরে শুনেছি, এ ধরনের নির্দেশনা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেই ছিল। ব্যবহারে জয় করা। তিনি নিজেও সব সময় তাই করতেন, এখনও করেন। সফরসঙ্গী সাংবাদিকরাও বেশ আন্তরিকতা দেখালেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সফরসঙ্গী, তার ওপর সবার আন্তরিকতা বেশ উপভোগ করলাম।

এই দিনই প্রথম কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে। টেকেরহাট ডাকবাংলোতে নেমে তিনি সাংবাদিকদের খোঁজ-খবর নিলেন। জিজ্ঞেস করলেন সব ঠিক আছে কি না। সিনিয়ররা তাকে জানালেন, ‘সব ঠিক আছে’। ভাল লাগল এই বিটের একজন সদস্য হতে পেরে। তখন গাড়িতে করে গোপালগঞ্জ যাওয়া ছিল একটি ঝক্কিপূর্ণ কাজ। বুড়িগঙ্গাসহ একাধিক ফেরি পার হয়ে মাওয়া ঘাট, ওখান থেকে বড় ফেরিতে পদ্মা পার হয়ে ভাঙ্গা, টেকেরহাট হয়ে মধুমতি নদীর তীর ঘেঁষে আঁকবাঁকা পথে যেতে হতো গোপালগঞ্জ। আসা এবং যাওয়ার পথে টেকেরহাট ডাকবাংলাতে ছিল কিছু সময়ের জন্য বিরতি। গোপালগঞ্জ থেকে টুুঙ্গিপাড়ার রাস্থা ছিল খুবই খারাপ। কিছুটা পিচ ঢালা, কিছুটা ইট বিছানো আর বেশিরভাগই ছিল কাঁচা রাস্তা।

বৃষ্টির দিন গাড়ি নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যেত। বিশেষ করে টুঙ্গিপাড়া থেকে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা ছিল আরও ভয়াবহ। খালের পাড় দিয়ে কাঁচা রাস্তায় বৃষ্টির দিন হেঁটে যাওয়াই ছিল কঠিন। অগ্রজ সাংবাদিকদের কাছে শুনেছি, আশির দশকে তারা যখন সেখনে যেতেন, পুরো রাস্তাই ছিল কাঁচা। বৃষ্টি হলে গাড়িতে করে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ত। গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটেই ওখানে যেতে হতো।

দুপুরের খাবার খেয়ে মধুমতি নদীর পাড় ঘেঁষে এঁকে বেঁকে পথ চলা। বিকেলে পৌঁছে যাই গোপালগঞ্জ সদরের উত্তর ভেন্নাবাড়ি শেখ মুজিবুর রহমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা করেন দলীয় সভানেত্রী ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় তিনি ঢাকায় সমন্বয় কমিটির আন্দোলনে পুলিশের নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের মৌলিক অধিকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক সমাজের প্রথম শর্ত।

বিএনপি সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে মানুষের অধিকার হরণ করছে।’ জনসভা শেষে শেখ হাসিনা চলে যান টুঙ্গিপাড়ায় তার পৈত্রিক বাড়িতে। আমরা কয়েকজন সাংবাদিক গোপালগঞ্জে থেকে যাই ঢাকায় সংবাদ পাঠানোর জন্য। পরদিন আমরা টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার দিকে রওনা দেই সকাল ১০টার দিকে। ফেরার পথ ছিল কোটালীপাড়া হয়ে টেকেরহাট। টুিঙ্গপাড়া থেকে কোটালীপাড়ার রাস্তা ছিল খুবই সরু। বেশিরভাগই কাঁচা। সরু রাস্তা, গাড়ির বহর যাচ্ছে ধীরে ধীরে। দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানাচ্ছে। গাড়ির জানালা খুলে হাত নেড়ে তিনি অপেক্ষমান মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দিচ্ছেন।

জনতার এই ভালবাসায় কোন চাওয়া-পাওয়ার বিষয় ছিল না। সেদিন ঢাকায় পৌঁছেছিলাম রাত ৯টায়। শেখ হাসিনা পৌঁছেছেন আমাদের আগে। গাড়ি থেকে নেমে তিনি অপেক্ষা করছিলেন আমাদের জন্য। আমাদের বললেন, ‘খাওয়া-দাওয়া করে যেও।’ মৃণাল দাকে বললেন, ‘সবাইকে বাসায় পৌঁছে দিস।’ সেই থেকে যাত্রা শুরু। প্রথম দিন থেকেই তার প্রতি আমার মুগ্ধতা তৈরি হয়। এই মুগ্ধতা কখন যে আপায় পরিণত হয়- তা বুঝতেই পারিনি।

বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা : প্রজন্ম পরম্পরা
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার সময় আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। আমার বাবা ছিলেন প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার সংবাদ শুনে আমার বাবাকে শিশুর মতো কাঁদতে দেখেছি। সেদিন বাবার মতো ভাবগম্ভীর একজন মানুষের এমন কান্নার অর্থ খুব একটা অনুভব করতে পারিনি। সংবাদিকতা শুরু করার পর সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনে সেদিন বাবার কান্নার অর্থ খুঁজে পেয়েছিলাম।

আমি এসএসসি পাস করার পরই আমার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। অল্প বয়সের কারণে হয়তো বাবা আমাদের সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা কথা বলতেন না। তার কাছে বঙ্গবন্ধুর কিছু গল্প শুনেছিলাম মাত্র। তিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছিলেন কাছে থেকে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে গ্রাম-গঞ্জে মুসলিম লীগের আধিপত্য ছিল প্রবল। বঙ্গবন্ধু তখন আওয়ামী লীগ নিয়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন সারাদেশ। জনসভা করছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রচুর লোকসমাগম হলেও জনসভাগুলো সংগঠিত ও পরিচালনা করার লোক পাওয়া যেত খুব কম।

মুসলিম লীগ নেতাদের ভয়ে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে সাহসী হয়ে উঠতে পারতেন না। আমাদের এলাকায় এমন একটি জনসভার জন্য সংগঠকের অভাব দেখা দিলে আমার বাবা এবং আরও কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে সভার কাজ পরিচালনা করেন। সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাদের কয়েক জনের পরিচয়। পরে এরাই আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। রুখে দাঁড়িয়েছিলেন পরম পরাক্রমশালী মুসলিম লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।

এই এলাকায় পরে বঙ্গবন্ধুর কোন কর্মসূচী থাকলে তাদের ডাক পড়ত। বঙ্গবন্ধু তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন এবং নাম ধরে ডাকতেন। প্রত্যন্ত গ্রামের এই কয়েক জনের হয়তো বঙ্গবন্ধুকে হাতেগোনা কয়েকদিন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। তাতেই তারা হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রেমিক। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তারা নিজ নিজ অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারা বঙ্গভবনে গিয়ে একবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতও করেছিলেন।

অল্প কয়েক দিনের সাক্ষাতে বঙ্গবন্ধুর বিশাল হৃদয়ে বাঁধা পড়েছিলেন তারা। এখন বুঝতে পারি, আমার বাবার এমন কান্না ছিল প্রিয়জন হারানোর বেদনাসিক্ত আহাজারি। আমার বাবার মতো কোটি কোটি মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা রয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি। ঠিক তেমনি পরশ পাথরের ছোঁয়ায় আমি এবং আমার মতো অসংখ্য মানুষের অনুভবের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনার সঙ্গে। এই সেতুবন্ধন সকল চাওয়া-পাওয়ার উর্ধে।

পাদটীকা

জাতির জনক আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন চিহ্নিত প্রতিপক্ষ বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে। তার মহান হৃদয়ে কখনও স্থান পায়নি ঘরের শত্রুর অস্তিত্ব। বাঙালীর প্রতি তার অগাধ আস্থার ফাঁক গলিয়ে ছোবল দিয়েছে বিশ্বাসঘাতক চক্র। তার কন্যা শেখ হাসিনাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে বর্ণচোরা দেশীয় শক্তি এবং ঘাতকদের বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্রকারীদের বুলেট, গ্রেনেডের স্পিøন্টার তাকে তাড়া করে ফিরছে সবসময়। তবুও তিনি স্বাভাবিক। ‘জন্মালে মরতে হবে’ এই সত্যে বলিয়ান বাংলার ভাগ্য বদলানোর পথিকৃৎ শেখ হাসিনা এগিয়ে চলেছেন তার আপন গতিতে। বাঙালী জাতির ভবিষ্যত সমৃদ্ধির জন্য তার এই পথচলা দীর্ঘায়িত হোক, জন্মদিনে এই প্রত্যাশা। শুভ জন্মদিন আমাদের প্রিয় আপা।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক জনকণ্ঠ