ফুটবলে এবার বাংলাদেশের ছেলেদের দুর্দান্ত সাফল্য

প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের উৎসবের মাঝেই এলো আরেকটি বড় আনন্দের খবর। বৃহস্পতিবার ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারিয়েছে কম্বোডিয়াকে। জয়সূচক গোলটি করেন রাকিব হোসেন। দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। এর আগে গত বছর কলম্বোতে মাহিন্দা রাজাপাকসে ট্রফিতে মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল জামাল ভূঁইয়ারা। এরপর সাতটি ম্যাচ খেলেও জয়ের মুখ দেখছিল না লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। মঙ্গোলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ছিল সেরা সাফল্য। এবার জয় পেল বাংলাদেশ।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে দারুণ জয় পেয়েছে তারা। প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার অধীনে এই প্রথম বারের মতো জয় পেয়েছেন জামালরা। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর নেপালের বিপক্ষে কাঠমান্ডুতে আরেকটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

দাপুটে ফুটবল খেলে নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর গত বুধবার দেশে ফিরেছে নারী ফুটবল দল। ছাদখোলা বাসে বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত তাদের রাজসিক সংবর্ধনা দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা। মেয়েদের এই সাফল্যের মধ্যেই পুরুষ ফুটবলেও আনন্দের উপলক্ষ পেয়েছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাংলাদেশ গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি। বিশ্বনাথ ঘোষের লম্বা থ্রো-ইন থেকে জামাল ভূঁইয়ার প্লেসিং লক্ষ্যে থাকেনি। অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে গেছে। ১৯ মিনিটে সুযোগ পায় কম্বোডিয়া। বক্সের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে সিন কাকাডার ডান পায়ের বুলেট গতির শট গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো এক হাত দিয়ে কোনো মতে ফিস্ট করে দলকে রক্ষা করেন। তবে ২৩ মিনিটে বাংলাদেশকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন রাকিব হোসেন। মতিন মিয়ার বাড়ানো বলে বক্সে ঢুকে দেখেশুনে ডান পায়ের জোরালো শটে কম্বোডিয়ার গোলকিপারকে পরাস্ত করেন সদ্য বসুন্ধরায় যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়াকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া কম্বোডিয়া একের এক আক্রমণ শানায় বাংলাদেশের রক্ষণে। কিন্তু বাদশা, বিশ্বনাথ, তারিকদের নিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। গোলপোস্টে জিকোর পারফরম্যান্সও ছিল দূর্দান্ত। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে আরও একটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। মতিনের দূরপাল্লার শট প্রথমে পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ফিরতে সাজ্জাদের প্রচেষ্টা রক্ষা করেন স্বাগতিক গোলরক্ষক। শেষ দিকে কম্বোডিয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ফলে দারুণ জয় নিয়ে মাঠে ছাড়ে বাংলাদেশ।

নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর উদ্দেশে কম্বোডিয়া থেকে নেপালের বিমান ধরবেন জামাল-মতিনরা।

কোচ কাবরেরার একাদশে ছিলেন- আনিসুর রহমান জিকো, টুটুল হোসেন বাদশা, রহমত মিয়া (রিমন হোসেন), বিশ্বনাথ ঘোষ, কাজী তারিক রায়হান, আতিকুর রহমান ফাহাদ, জামাল ভূঁইয়া (সোহেল রানা), বিপলু আহমেদ, রাকিব হোসেন (ফাহিম), মতিন মিয়া ও সুমন রেজা (সাজ্জাদ হোসেন)। এই একাদশ খেলিয়েই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। এর আগে চার বারের সাক্ষাতে তিন বার কম্বোডিয়াকে হারায় বাংলাদেশ দল। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে কম্বোডিয়ার চেয়ে ১৮ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। কম্বোডিয়ার র‌্যাংকিংয়ে যেখানে ১৭৪, জামালদের অবস্থান সেখানে ১৯২তম। তবে মাঠের খেলাতে র‌্যাংকিংয়ের ছাপ খুব একটা চোখে পড়েনি।