আজাদী প্রতিবেদন

চট্টগ্রামে এখন সাড়ে ৩শ মেগাওয়াট লোডশেডিং

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ , জুলাই ৫, ২০২২

চট্টগ্রামসহ সারা দেশে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে পিডিবি লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এখন চট্টগ্রামে পিক আওয়ারে ১৩শ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ মেগাওয়াটের লোডশেডিং চলছে বলে জানান পিডিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। এদিকে দিনে কয়েকবার করে বিদ্যুৎ যাওয়ায় গরমে ভোগান্তি বেড়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে সরকারি ৭টি এবং বেসরকারি ১৫টি মিলে মোট ২২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রয়েছে। এই ২২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩৮২ মেগাওয়াট। কিন্তু গত রবিবার চট্টগ্রামে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩১০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। যার কারণে এই তীব্র গরমের মধ্যে গত শনিবার থেকে নগরীর প্রতিটি সাবস্টেশন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। চলতি বছরে গত সাত মাসের মধ্যে গতকাল এবং গত রবিবার চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ে ভোগেছে নগরবাসী। বেশ কয়েক বছর পর গতকাল পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা-এখন চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে লোডশেডিং চলছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে।
এ ব্যাপারে পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এম রেজাউল করিম আজাদীকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এটা শুধু চট্টগ্রামের সমস্যা নয়। এটা জাতীয় পর্যায়েও একই অবস্থা। চট্টগ্রামের কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এখন চট্টগ্রামে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ মেগাওয়াট লোডশেডিং চলছে। পিক আওয়ারে এখন চট্টগ্রামের বিদ্যুতের চাহিদা ১৩শ’ মেগাওয়াটের মতো।প্রধান প্রকৌশলী এম রেজাউল করিম সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বড় বড় শপিং মলগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেভাবে সেন্ট্রাল এসি চালিয়ে রাখে এবং হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও মার্কেট গুলোতে যেভাবে দিনে-রাতে
অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালিয়ে রাখে এই মুহূর্তে সেগুলো বন্ধ করলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। যার যার অবস্থা থেকে যদি আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হই তাহলে আমাদের অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। মূলত চট্টগ্রামে গত শনিবার থেকে লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। সারা পৃথিবী ব্যাপী এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি কমাতে এই মুহূর্তে সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের (চট্টগ্রামের) কিছু করার নেই।