সিনহা হত্যা মামলা, সাক্ষ্য দিলেন ৬ সেনা কর্মকর্তা নিউজ ৭১ অনলাইন নিউজ ৭১ অনলাইন প্রকাশিত: 8:53 PM , October 10, 2021 আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত পঞ্চম ধাপের প্রথম দিনে আরও ৬ সেনা কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন।রোববার (১০ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈলের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। এর আগে ১৫ জন আসামিকে জেলা কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শুরুতে মামলার ২০তম সাক্ষী বেবি বেগমের অসমাপ্ত জেরার মধ্যদিয়ে শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে আরও ৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এ নিয়ে পঞ্চম দফায় ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালত।কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম আদালতের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের জানান, রোববার (১০ অক্টোবর) দিনব্যাপী ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন আদালত। সকাল সোয়া ১০টার দিকে মামলার ২০তম সাক্ষী বেবি বেগমের জেরার মধ্যদিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে আরও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ নেয় আদালত।এর আগে ২৮ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর এ দু’দিনে সাক্ষী ছেনুয়ারা বেগম, আলী আহমদ, হাম জালাল, ফরিদুল মোস্তফা, সালেহ আহমদ ও বেবি বেগমের সাক্ষগ্রহণ করেন আদালত। চতুর্থ দফায় এ মামলায় ২০ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছিল। তাদেরকে ১৫ জন আসামি-পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুলিশ আটক করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নূরকে আটক করা হয়। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব।২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।আসামিদের মধ্যে পুলিশের ৯ জন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন, বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেবনাথ।অন্য আসামিরা হলেন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আবদুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিষবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের করা মামলার সাক্ষী নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এর আগে আসামিদের তিন দফায় ১২ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। শেয়ার আইন-আদালতবিষয়: