জয়তু বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার জেষ্ঠ সন্তান, তাঁদের প্রিয় হাসু, আমাদের জননেত্রী, দেশরত্ন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের প্রধান কান্ডারী ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমাদের প্রিয় শেখ হাসিনা, এবার ৭৫-এ পা দিলেন। ছাত্র জীবন থেকেই প্রত্যক্ষ ছাত্র রাজনীতির একজন একনিষ্ঠ সংগঠক।

বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সপরিবারে হত্যার পর বাংলার আকাশে যখন কালো মেঘের ঘনঘটা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলুণ্ঠিত, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান – তখন ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সম্মেলনে সংগঠনের প্রধান কান্ডারীর কঠিন দায়িত্ব শেখ হাসিনার উপর অর্পণ করা হয়। সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানি চিন্তা চেতনার ধারক বাহক শাসকগোষ্ঠীর রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানো ও জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজেকে আত্মোৎসর্গ করার মানসে ব্রতী হয়ে ১৯৮১ সালে ১৭ মে (প্রিয় বোন শেখ রেহানা, নিজের দুই সন্তান ও স্বামীকে প্রবাসে রেখে) বাংলা মায়ের কাছে ফিরে আসেন। সেই থেকে বাংলার মানুষ ফিরে পেল তাদের সুখে-দুঃখের চিরসাথী, বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলায় বেঁচে থাকার শেষ ঠিকানা। শেখ হাসিনা মানে বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলার পথ প্রদর্শক এবং বাংলার অর্থনৈতিক মুক্তির ঠিকানা।

পৃথিবীতে যুগে যুগে যখনই অধর্মের গ্লানি/পাশবিক শক্তির বিস্তার লাভ করেছে তখনই সৃষ্টিকর্তা মানুষরূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করেন সর্বতোভাবে। বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য স্রষ্টার সৃষ্টির একজন মহানায়ক। পৃথিবীর ইতিহাসে যা বিরল। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও তা-ই আমাদের সকলের কাছে। সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে পরিপূর্ণতা দানের জন্য শেখ হাসিনাকে বেঁচে থাকতেই হবে। শেখ হাসিনাকে প্রায় ১৭ বার প্রাণে মেরে ফেলতে গিয়েও মারতে পারেনি নরপিশাচরা। এ যেন স্রষ্টাই নিজ হাতে বার বার তাঁকে রক্ষা করেন আমাদের জন্য, বাংলার মানুষের জন্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির জন্য। এ ঘটনাও যেন পৃথিবীতে বিরল।

আমাদের প্রিয় কবি বেগম সুফিয়া কামাল তাঁর এক লেখনীতে শেখ হাসিনাকে আশির্বাদ করে লিখেছিলেন- ‘পরম প্রত্যাশায় আছি, শেখ হাসিনা মৃত্যুর ভয়ে পশ্চাৎপদ হননি। সাহসের সাথে সংগ্রাম এগিয়ে অগ্রবর্তিনী হয়ে আমাদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন আর ঘাতক মূষিক গোপন থেকে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পদদলিত হওয়ার আকাক্সক্ষায় কৃমিকীট হয়ে আত্মগোপন করেছে। আল্লাহ সহায় হোন, শেখ হাসিনা অজেয় অমরত্ব লাভ করে সর্বদলের বিজয়িনী হয়ে বিরাজ করুন। এই প্রার্থনা আজ সর্বজনার কাছে।’

রাজনৈতিক কারণে অথবা ব্যক্তিগত কারণে শেখ হাসিনাকে অপছন্দ হতেই পারে অনেকের। কিন্তু বিগত প্রায় চার দশক ধরে যারাই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বা ভবিষ্যৎতে দেবেন সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি শেখ হাসিনার সমতুল্য তিনি নিজেই। উনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে কোন সূচকেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রতিবেশি যে কোন দেশের তুলনায়। আমাদের চরম ব্যর্থতা বঙ্গবন্ধুকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি। তা না হলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে সামিল হতো। শত বাধা বিপত্তি ও প্রতিকূলতা সত্বেও শেখ হাসিনার দক্ষ রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়া আরও ত্বরান্বিত হতো যদি আমরা সর্বতোভাবে যার যার অবস্থান থেকে প্রকৃত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতাম, উনাকে সহযোগিতা করতাম।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়া সত্যিই দূরহ কাজ ছিল। অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান দৃঢ় প্রত্যয়ে ও বিশ্বাস নিয়ে বলেছিলেন ‘… এর কোন কাজই যে সহজ নয়, তা জানি। তবু সেই কঠিন কাজটিই তার জন্য অপেক্ষা করছে। তাকেই তা করতে হবে।’ ২১ বছর ধরে মুক্তিযুদ্রে ধারাকে দূরে রাখা হয়েছিল, অবশেষে সেই দূরহ কাজের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, গঙ্গার পানিচুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা দিয়ে শুরু তাঁর কর্মযজ্ঞ। ইনডেমনিটি অর্ভিন্যাস বাতিল করে জাতির পিতা হত্যাকারীদের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য এগিয়ে নেয়া ছিল খুবই কঠিন কাজ।

শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নারীর ক্ষমতায়ন, বিনামূল্যে স্কুল পর্যায়ে সকল শিক্ষার্থীর নিকট বই পৌঁছিয়ে দেয়া, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়া, অসহায়-বিধবা-প্রতিবন্ধী-অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা প্রদান, আশ্রায়ন প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সহ সর্বক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করে ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত দেশে পরিণত করতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আমরা কতটুকু শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত করতে পেরেছি জানি না। তবে তাঁর সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সমগ্র মানব জাতির প্রতি কাজের কৃতিত্ব স্বরূপ সারাবিশ্বের অনেক সম্মানসূচক পদকে ভূষিত হয়েছেন জননেত্রী। চ্যাম্পিয়ন অব দ্য গেøাবাল পিস, চ্যাম্পিয়ন অব হিউম্যান রাইটস, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ, প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কারসহ পুথিবীর অসংখ্য নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান সূচক সম্মাননা পেয়েছেন। বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন এবং নিজেকে বিশ্বনেতৃত্বের কাতারে সামিল করেছেন।

‘ভোগে সুখ নহে, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।’ এ প্রবাদ যেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার জীবনে শতভাগ সত্য। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর সন্তান হওয়া সত্বেও জেল জুলুম, হত্যার ষড়যন্ত্র, সামরিক শাসক গোষ্ঠীর রক্ত চক্ষুতে উপেক্ষা করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য রাজপথ বেছে নিয়েছিলেন। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই’ – কবির এই উক্তির যথার্থতাও তাঁর জীবনে উল্লেখযোগ্যভাবে আমরা লক্ষ্য করি সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার মধ্য দিয়ে এবং যার জন্য ব্রিটিশ গণমাধ্যম দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলে আখ্যায়িত প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী যখন রোহিঙ্গাদের দেখতে শরণার্থী শিবিরে গিয়েছিলেন, তখন একজন বিদেশি সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘এই রোহিঙ্গাদের আপনি কতদিন রাখবেন ?’ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন,‘কতদিন? এরা সবাই মানুষ।’ এবং বলেছিলেন, তিনি মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেদিন তাঁর কাছে মানবিকতাই প্রাধান্য পেয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু বলতেন,‘ …..আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান বলে কিছু নেই। সকলেই মানুষ।’

শেখ হাসিনার পর্বতসম অকুতোভয়, অসীম সাহস, কর্মে পারদর্শিতা, দৃঢ় মনোবল এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা তাঁকে করেছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সন্তান, দক্ষ ও বিচক্ষণ রাষ্ট্র নায়ক। অর্থনীতি, যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন, জীবন যাত্রার মান প্রায় সর্বক্ষেত্রেই বিশ্ববাসীর নিকট সমীহ করার মতো অবস্থায় পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশকে। তাইতো ষড়যন্ত্র ও বিশ্বব্যাংকের মিথ্যাচারকে উপেক্ষা ও পদদলিত করে অসীম সাহসিকতায় নিজস্ব অর্থায়নে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে মেগা প্রকল্প স্বপ্নের পদ্মাসেতু আজ গর্বিত বাস্তবতা।

যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এর মতে – ঈশ্বর ব্যতীত মানুষকে মানুষ সাহায্য করতে পারে না, সেবা করতে পারে এবং এমন ভাব নিয়ে সহযোগিতা করতে হয় যেন ডান হাত দিয়ে সহযোগিতা করলে বাম হাত টের না পায়। এভাবটি বঙ্গবন্ধু কন্যার চিন্তা ও চেতনায় আমরা দেখতে পাই। ১৯৮৮ সালে এদেশে ভয়াবহ বন্যার সময় উনার সহপাঠী কবি নির্মলেন্দু গুণকে লেখা চিঠি নিম্নে পাঠকদের জন্য হুবহু উৎকলিত (সাপ্তাহিক বাংলা বিচিত্রা থেকে সংগ্রহীত) –

বন্ধুবরেষু গুণ,
আপনার অনুরোধে কিছু ছবি পাঠালাম। তবে আমার একটা অনুরোধ রাখবেন। ‘ত্রাণ বিতরণ করছি’ এ ধরনের কোনো ছবি ছাপাবেন না। মানুষের দুর্দশার ছবি যত পারেন ছাপান। আমার ধারণা এ ধরনের অর্থাৎ ত্রাণ বিতরণের ছবি টেলিভিশন ও খবরের কাগজে দেখে দেখে মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে। ওরা গরিব, কিন্তু সেটা কি ওদের অপরাধ? একশ্রেণী যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ না করত তাহলে এরা কি গরিব হতো ? কার ধন কাকে বিলাচ্ছে? যা কিছু আছে সকলে মিলে ভাগ করে ভোগ করলে এক জনের কাছে অপরের হাত পাতার প্রয়োজন হতো না। ওদেরই সম্পদ লুট করে সম্পদশালী হয়ে আবার ওদেরই দুর্দশার সুযোগ নিয়ে সাহায্য দানের নামে হাতে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ব্যক্তিগত ইমেজ অথবা প্রতিষ্ঠা লাভের প্রয়াস আমি মানসিকভাবে কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। আমার বিবেকে বাঁধে। তবুও অনেক সময় পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে অনেক কিছুই করতে হয়। আমিও করি। বিবেকের টুটি চেপে ধরে অনেক সময় সমাজ রক্ষার তাগিদে, সাথীদের অনুরোধ বা অপরের মান রক্ষার জন্য এ ধরনের কাজ বা ছবি তুলতে হয় বৈকি। তবে যে যাই দান করুক না কেন, বিলি করুক না কেন, এটা তো ওই গরিব মানুষগুলোর অধিকার, তাদেরই প্রাপ্য। ক্ষমতার দাপটে কেড়ে নেওয়া ওদেরই সম্পদ অথবা ওদের পেটের ক্ষুধা দেখিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে ভিক্ষে এনে এদের দান করা। এখানে ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার সুযোগ কোথায় ? এই ‘ক্রেডিট’ নিতে যাওয়াটা কি দুর্বলতা নয় ? আত্মপ্রবঞ্চনা নয় ? কতকাল আর বিবেককে ফাঁকি দেবে ? এই গরিব মানুষগুলোর মুখের গ্রাস কেড়ে খেয়ে আবার এদেরই হাতে ভিক্ষে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ইমেজ তৈরির পদ্ধতি আমি পছন্দ করি না। আমি মনে করি যা দান করব তা নীরবে করব, গোপনে করব। কারণ এটা লজ্জার ব্যাপার, গর্ব করার ব্যাপার মোটেই নয়। গর্ব করার মতো কাজ হতো যদি এই সমাজটাকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়া যেত। গর্ব করার মতো হতো যদি একখানা কাঙ্গালের হাতও সাহায্যের জন্য বাড়িয়ে না দিত। ফুটপাথে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে ভিক্ষের হাত না বাড়াতো সেটাই গর্ব করার মতো হতো। যে স্বপ্ন আমার বাবা দেখেছিলেন, সেদিন কবে আসবে? আমার অনুরোধ আপনার কাছে, সেই ছবি ছাপাবেন না যে ছবি হাত বাড়িয়েছে সাহায্য চেয়ে, আর সেই হাতে কিছু তুলে দিচ্ছি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে। অনেকেই তুলে থাকেন। আমার বড় অপরাধী মনে হয় নিজেকে। লজ্জা হয় গরিব মানুষদের কাছে মুখ দেখাতে। আমরা সমাজে বাস করি। দুবেলা পেট পুরে খেতে পারি। ভালোভাবে বাঁচতে পারি। কিন্তু ওরা কী পাচ্ছে ? ওদের নিয়ে এ ধরনের উপহাস করা কেন? ওরা বরদাশত করবে না, একদিন জেগে উঠবেই সেদিন কেউ রেহাই পাবে না। আমার অনুরোধ আশা করি রাখবেন। শুভেচ্ছান্তে-শেখ হাসিনা, ০৯.১০.৮৮

‘আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা। আমি এ দেশের মানুষের অধিকার চাই” – বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বক্তব্যের প্রতিধ্বনি পাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার বক্তব্যে ও নেতৃত্বে। ২০০১ সালের ২০ মার্চ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে এসে আমেরিকার মাধ্যমে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট। তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানকে বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশে কত গ্যাস আছে আমরা এখনো জানি না। আমাদের দেশের মাত্র সামান্য কয়েক পার্সেন্ট মানুষ এই গ্যাস সুবিধাটা পাচ্ছে। গ্যাস দেশের সম্পদ, জনগন এর মালিক। আগে জনগনের চাহিদা আমাকে পূরণ করতে হবে। চাহিদা পূরণ করার পর ৫০ বছরের মজুদ রাখবো ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য। তার অতিরিক্ত গ্যাস যদি থাকে, তখন আমরা তা বিক্রি করতে পারি। তার আগে বিক্রি করতে পারি না।’ সেদিনের সেই দৃঢ়চেতা প্রকৃত দেশ প্রেমিক রাষ্ট্রনায়কোচিত অবস্থানের কারণে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ অধিকাংশ জনগনের ভোট পেয়েও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারেনি। কথিত রয়েছে বিএনপি-জামাত জোট সেই প্রস্তাবে মুচলেকা দিয়েই ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণদেব কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘…..ভালো মানুষকে মাঝে মাঝে অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। যেমনটি হীরা একটি সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু – তাকেও কষ্টি পাথরে যাচাই করে নিতে হয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেমনটি মূল্যবান বাংলার মানুষের কাছে। বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে, নেতৃত্ব দিতে, বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করতে প্রতিনিয়ত তাঁকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, মৃত্যুভয়কে জয় করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। তাঁকে এগিয়ে যেতেই হবে। অসাম্প্রদায়িক, মানবিক এবং উন্নত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে। সৃষ্টিকর্তা তাঁর সহায় হোন। জয়তু শেখ হাসিনা। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: গণিত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কার্যকরী সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য (প্রাক্তন)।