বন্ধুসম অনুজ মরহুম আবু সাঈদ স্মরণে- আজিজুল হক

সুস্থির সরকার সুস্থির সরকার

বিভাগীয় প্রধান ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১১, ২০২১
৪৬ বছরের এই জীবনে ছোট বড় অনেক মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে, সময় কাটিয়েছি, গল্প করেছি, আড্ডা মেরেছি, ঝগড়া করেছি, অভিমান করেছি, কিন্তু আবু সাঈদ এর ব্যাপরটা ভিন্ন। সদা হাস্যউজ্জ্বল সাদা মনের একজন সৎসাহসী, পরোাপকারী মানুষ ছিল। তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার অনেক বিনিদ্র রজনীর স্মৃতি।
আমার সৃজন কোচিং সেন্টারে বসে গল্প করতে করতে কখন যে রাত পোহাত টেরই পেতাম না। এক সময় তার চাকরি হল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পদে। ছুটিতে আসলেই বাড়ীতে ব্যাগটা পাঠিয়ে দিয়ে থেকে যেত বাজারে। আমিও ছিলাম সারাক্ষন বাজারের একজন সদস্য। কত আড্ডা, কত গল্প, কত হাসা-হাসি, চিল্লা-চিল্লি, কত রাত জাগা স্মৃতি, বাজারের পাহাড়াদার নাইব আলী ভাই ও লেবুর বাবা সতীশ কাকু আমাদেরকে প্রায়ই সঙ্গ দিত।
আজ আবু সাঈদ আমাদের মাঝে নেই। আমরা বন্ধু বান্ধব যখন একত্রিত হই তখন তার কথা বেশি মনে পড়ে। মনে হয় সাঈদ থাকলে আড্ডাটা আলাদা ভাবেই জমতো। সাঈদ তো আর কোনোদিন আমাদের মাঝে আসতে পারবেনা। সে তো না ফেরার দেশে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেছে। সেই নিবাস থেকে আর কোনো দিন আমাদের মাঝে আসবেনা।
সে যখন ছিল তখন আমাদের ভাল মন্দের খোঁজ খরব নিত। কিন্তু আমরা এতই আত্ম ভোলা যে- তার রেখে যাওয়া স্ত্রী ও দুটি সন্তানের খোঁজ খবর নিতে পারিনা। সেটা মনে হলে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।
আমার জীবনে আবু সাঈদের প্রভাবটা খুব বেশি ছিল। তার বেকার জীবনের প্রায় সবটুকু সময় আমার সঙ্গে কেটেছে। সুস্থির ,তাপস, জেমসন, মন্টু, তানবীর, দিলাল, হবি, সিরাজ, টাবলু, অহি, কর্নেল, স্বপন, মোস্তফা, মহসিন, শাহীন আমি সহ অসংখ্য নিস্কর্মারদল এক সাথে কাটিয়েছি অনেক দিন।
কাঁচা মরিচ আর চেপা বর্তা দিয়ে কত ভাত খেয়েছি সৃজন কোচিং সেন্টারে। সে তার বাড়ীতে ভাত পাক করিয়ে তার ছোট ভাইদেরকে বলতো ভাত নিয়ে আসার জন্য। আমারা একসাথে খেতাম। প্রায়ই আমাদের সঙ্গে যোগ দিতেন আমাদের পরম শ্রদ্ধা ভাজন শিক্ষক মরহুম গিয়াস উদ্দিন স্যার। সেই কাঁচা লংকার ঝাল আমাদেরকে যে কত তৃপ্তি দিত তা কি আর লেখার ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব? আজ সবই কেবল স্মৃতি “ কে আর বাজাবে বাঁশি শ্যামব্রজে নাই গো। বাজেনা শ্যামেরও বেনু মাঠেতে চড়েনা ধেনু শ্যামব্রজে নাই গো।”
আজ দুর থেকে শুধূ মহান আল্লাহ তালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তার রেখে যাওয়া স্ত্রী সন্তানদের ভালো রাখেন। তার সন্তান গুলো যেন ভালো মানুষ হয়ে পরোপকারী পিতার স্বপ্ন পূরনে সক্ষম হয়।
তার অনেক ঘনিষ্ট বন্ধু বান্ধব আছেন। তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ রইল আপনারা যেন তার সন্তান গুলোর খোঁজ খবর নেন।তারা যেন জানতে পারে যে, তাদের বাবা একজন বন্ধু প্রিয় পরোপকারী মানুষ ছিলেন। তারা যেন তাদের বাবাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে যে তাদের বাবার একটা বিশাল বন্ধু মহল ছিল যারা আজ সবাই বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত। আমি আবু সাঈদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
আজিজুল হক
আদর্শ নগর, মোহনগঞ্জ,নেত্রকোনা।
২৩/০২/২০২০