কবি ও সাংবাদিক হাবীবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ , জুন ১৭, ২০২০

কবি ও সাংবাদিক হাবীবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৭ জুন ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। পত্রিকায় সম্পাদনার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। তার রচিত কাব্যগ্রন্থ উপাত্ত ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। একই বছর তিনি অনুবাদ করেন চীনা প্রেমের গল্প, জন কেনেডি, জীবনের জয়গান, পাল তুলে দাও এবং সম্পাদন করেন কিশোর সংকলন সপ্তডিঙ্গা। এছাড়া তিনি আগডুম বাগডুম, লেজ দিয়ে যায় চেনা, বনে-বাদাড়ে, পুতুলের মিউজিয়াম শিশুসাহিত্য রচনা করেন।

হাবীবুর রহমান ১৯২৩ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, কবি এবং শিশুসাহিত্যিক। তিনি একটি কাব্যগ্রন্থ, একটি সম্পাদনা, নয়টি শিশুসাহিত্য এবং চারটি অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন।

হাবীবুর রহমান ১৯২৩ সালের ১ জুলাই তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান ভারত) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার পালিশ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করেন। পরে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে, কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়।

রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৪৩ সালে আসানসোলের এক কয়লা খনিতে শ্রমিক হিসেবে। পরে কিছুদিন কলকাতার মডেল হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি দৈনিক আজাদ পত্রিকায় যোগ দেন। দেশ ভাগের পরে ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এসময় দৈনিক আজাদ স্থানান্তরিত হয়ে ঢাকায় আসলে তিনি এই পত্রিকার সহসম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক সংবাদ (১৯৫১), সাপ্তাহিক কাফেলা, মাসিক সওগাত, মহিলা সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বায়িত্ব পালন করেন।

পত্রিকায় সম্পাদনা ছাড়াও তিনি কয়েকটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রকাশনা সংস্থা সিলভার বার্ডেট কোম্পানিতে কাজ করেন, ১৯৫৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ইউসিসে কাজ করেন এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামসের বাংলা বইয়ের অনুবাদ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রহমান দৈনিক সংবাদের ছোটদের সাহিত্য পাতা খেলাঘর-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন এবং তিনি ‘ভাইয়া’ নামে এই পাতা পরিচালনা করতেন। এছাড়া ‘বাগবান’ নামে দৈনিক আজাদের ছোটদের পাতা ‘মুকুলের মাহফিল’ পরিচালনা করতেন।

শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। হাবীবুর রহমান স্মৃতি পরিষদ থেকে তার স্মরণে ‘কবি হাবীবুর রহমান শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।