কল্প বিজ্ঞানের সাধক সাহিত্যিক অনীশ দেবের জীবনাবসান -সাকিল আহমেদ, কলকাতা

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ , এপ্রিল ২৯, ২০২১

‘বিজ্ঞানের দশ দিগন্ত,’হাতে কলমে কম্পিউটার’ ‘জীবন যখন ফুরায়ে যায়’ কিংবা ভূতের গল্পের লেখক অনীশ দেবের মহাপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা সাহিত্য মহল।

কোভিড কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ।
অনীশ দেবের মৃত্যুতে শেষ হয়ে গেল কল্প বিজ্ঞানের একটা যুগ

তিনি ভর্তি ছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন। বুধবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিদায় লেকচারার পদে কাজ করার পাশাপাশি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন তিনি।
অনীশবাবুর পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রবীণ লেখক। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে অনীশবাবুকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সাহিত্যিক বাবার মৃত্যুতে আঘাত পেলেও ভেঙে পড়েননি লেখক কন্যা মোনালিসা দেব। ফোনে বললেন, “বাবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। পরে কোভিডও ধরা পড়ে। অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। প্লাজমা ডোনার দরকার ছিল। সবই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।
সাহিত্যিক অনীশ দেবের জন্ম ১৯৫১ সালে কলকাতায়। লেখালিখি শুরু করেন ১৯৬৮ সালে। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ– ঘাসের শীষ নেই, সাপের চোখ, তীরবিদ্ধ, জীবন যখন ফুরিয়ে যায় ইত্যাদি। সম্পাদনা করেছেন সেরা কল্পবিজ্ঞান, সেরা কিশোর কল্পবিজ্ঞান ইত্যাদি গ্রন্থ। তাঁর জনপ্রিয় বিজ্ঞান গ্রন্থ–- বিজ্ঞানের হরেকরকম, হাতে কলমে কম্পিউটার, বিজ্ঞানের দশদিগন্ত ইত্যাদি।
কয়েকদিন আগে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি শঙ্খ ঘোষ, কবি পবিত্র মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছিলেন করোনা আক্রান্ত হয়ে।কল্প বিজ্ঞানের লেখক ঔপন্যাসিক অনীশ দেবের প্রয়াণে স্তব্ধ হল কল্প বিজ্ঞান চর্চা।
অনীশ দেব ২০১৯ সালে পান পশ্চিম বঙ্গ সরকারের বিদ্যাসাগর পুরস্কার।প্রাচীন কলা কেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার, ড,জ্ঞান চন্দ্র ঘোষ পুরস্কার।
বজ্র গোলাপ, হিমশীতল, ক্ষুর ধার খেলা, ডট কম রহস্য,ভূতনাথের ডায়েরি অনীশ দেবের অনবদ্য সৃষ্টি।কল্প বিজ্ঞান ও রহস্য গল্পের লেখক অদ্রিশ বর্ধন ও অনীশ দেব চলে যাওয়ায় এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হল বলে মনে করে সাহিত্য মহল।