মেডিকেলে ভর্তিতে সারাদেশে প্রথম পাবনার মুনমুন

প্রকাশিত: ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ , এপ্রিল ৬, ২০২১

‘এমন ফলাফলের পেছনে আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। সর্বোপরি মহান আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমি শুধুমাত্র নিজের মেধা-পরিশ্রম দ্বারা চেষ্টা করে গেছি। ভবিষ্যতে একজন ভাল চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাই।’

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন পাবনার মেয়ে মিশরী মুনমুন।

গত ২ এপ্রিল পাবনা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্র থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার মোট প্রাপ্ত নাম্বার ২৮৭.২৫।

মিশরী মুনমুন পাবনা শহরতলীর রাধানগর নারায়ণপুর মহল্লার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম ও মোছা: মুসলিমা খাতুন দম্পতির কন্যা। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মিশরী মুনমুন।

বাবা আব্দুল কাইয়ুম স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সাধারণ ওয়ার্কার হিসেবে চাকুরী করেন। তার তিন মেয়ে। কোনও ছেলে নেই। বড় মেয়ে মেহেরাজ মুনমুনও একজন ডাক্তার। তিনি চুয়াডাঙ্গায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকির করেন। মেজো মেয়ে মেহেরাব মুনমুন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে রসায়ন বিভাগে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়েন।

নিজের কনিষ্ঠ কন্যার এমন কৃতিত্ব অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করে বাবা আব্দুল কাইয়ুম জানান, মিশরী মুনমুন পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি এবং পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করেন। দুটোতেই তিনি জিপিএ-৫ লাভ করেন।

পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার জানান, মিশরী মুনমুন ছোট থেকেই মেধাবী ছিল। তৃতীয় শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত সে এখানেই পড়াশোনা করেছে। সব সময় সে ক্লাসে প্রথমস্থান অধিকার করতো। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় সে প্রথম হয়েছে জেনে আমরা খুবই আনন্দিত। সে পাবনার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির মজুমদার বলেন, আমরা খুবই গর্ববোধ করছি এই ফলাফলে। মুনমুন আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি।

মিশরী মুনমুনের বাবা আব্দুল কাইয়ুম ও মা মুসলিমা খাতুন জানান, মেয়ের এমন ফলাফলে আমরা খুবই খুশি। সবার আগে আমরা চাই সে মানুষের মতো মানুষ হোক।