সাঁওতাল তরুণীরা ফুলে ফুলে সেজেছেন

মনজুরুল হক মঞ্জু মনজুরুল হক মঞ্জু

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ , এপ্রিল ৩, ২০২১

বসন্তে শাল গাছে ফুটেছে সারজাম, মহুয়ায় ফুটেছে মাতকম। আদিবাসী সাঁওতাল নারীরা সেই শাল ফুল খোঁপায় পরে সেজেছেন। সাঁওতালদের দ্বিতীয় বৃহৎ বাহা পরব উৎসব উদযাপিত হচ্ছে পার্বতীপুরে। করোনার কারণে এবার আয়োজন সীমিত হলেও অনেকটা রং ছড়িয়েছে পার্বতীপুরের চ-িপুর ইউনিয়নের বারকোনা গ্রামের কলম সরেন-আলমা সরেন মাঠ। গতকাল শুক্রবার জাহের থান পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাহা উৎসব। গ্রামের নাইকে অর্থাৎ পুরোহিত সাদা ধুতি পরে শুরু করেন পূজা। তরুণীরা সাঁওতালি ভাষায় মেতে ওঠেন নাচে-গানে। সম্প্রতি বছর ফাল্কগ্দুনের পূর্ণিমা তিথির পর সাঁওতালরা তাদের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব উদযাপন করে থাকেন। বাহা শব্দের অর্থ ফুল। বাহা পর্বের প্রথম দিনকে বলা হয় উম আর দ্বিতীয় দিনকে বলা হয় বাহা সারদি। বাহা পর্বের জন্য নির্দিষ্ট পূজার স্থান তৈরি করা হয়, যাকে বলা হয় জাহের থান।॥হজাহের থানের দুই পাশে তৈরি করা হয় ছোট্ট খড়ের ঘর। গ্রামের নাইকে অর্থাৎ পুরোহিত সাঁওতাল নারী-পুরুষদের নিয়ে সাদা ধুতি পরে হাজির হন জাহের থানে। নাইকের হাতে থাকে কাঁসার থালা। থালায় সাজানো থাকে সিঁদুর, কলা, ধূপ, শাল ফুলসহ নতুন নতুন ফুল। সেখান থেকে নাইকে পূজা করে গ্রামে ফিরে আসেন সবাই। পূজা শেষে গ্রামের ছেলেরা যান শিকারে। এর পর নাইকের বাড়িতে জমায়েত হন তারা। সেখানে নেচে-গেয়ে মেতে ওঠেন। এ সময় সাঁওতালের তিন দেবতা জাহের এঁরা (গ্রামের দেবী), মারাঙবারু (প্রধান দেবতা), পারগানা বঙ্গা (এলাকার দেবতা) তিন যুবকের ওপর ভর করেন। জাহের এঁরা পুরোহিতের কাছে সাকম (হাতের বালা) দাবি করেন। মারাঙবারু তীর-ধনুক এবং পারগানা বঙ্গা ডালি ও ঝাড়ূ দাবি করেন। এর পর সবাই মিলে পূজার স্থানে চলে যান। সেখানে রোগ-শোক দূর এবং বৃষ্টি-বাদলে জমির ফসল যাতে ভালো হয় এই কামনা করে দেবতাদের বিদায় জানানো হয়। উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাসন্তী মুরমু বলেন, উৎসবের আগে সাঁওতালরা শিকারে যান না; ফুলের মধুও পান করেন না।গতকাল বিকেলে আদিবাসীদের বাহা পরব উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার সনজিত কুমার ভাট্টি, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, গবেষক ও কথাসাহিত্যিক ড. মাসুদুল হক প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী কমিটির সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন।