সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ , মার্চ ১৫, ২০২১

সাভারে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা। এদের মধ্যে অনেকেই শিশু সন্তান কোলে নিয়ে দাঁড়িয়েছেন মানববন্ধনে।

সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে সাভারের সিটি সেন্টারের সামনে এই মানববন্ধন করেন বিড ফেয়ার নাম পোশাক কারখানার প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক।

শ্রমিকরা জানায়, সাভারের ডিবি পুলিশ কার্য্যালয়ের নিচে বিড ফেয়ার নামক একটি কারখানায় প্রায় ২ শাতাধিক শ্রমিক কাজ করে আসছিলেন। তবে এর মালিক আল-আমিন গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন না দিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা গত প্রায় আড়াই মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

কারখানাটির শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, আমাদের গত দুই মাসের বেতন প্রদানের জন্য মৌখিকভাবে দিন ধার্য করে আল-আমীন। কিন্তু কাউকে কিছু না বলে তিনি কারখানায় আসা বন্ধ করে দেন। গত ১ মার্চ থেকে কারখানার গেটে তালা ঝুলিয়ে তিনি লাপাত্তা হয়ে যান।

অপর শ্রমিক শারমিন বলেন, আমরা গত দুই মাস ধরে বেতন পাইনা। এ মাসেরও অর্ধেক চলে গেলো। কারখানার মালিকের সাথে আমরা যোগাযোগই করতে পারছি না। এদিকে আমাদের বাড়িওয়ালা বাসাভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। দোকানদার বাকি টাকার জন্য বাজার দেওয়া বন্ধ করেছেন। আমরা খুব দুরাবস্থায় আছি। আমরা শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাভার মডেল থানায় লিখিতভাবে বিষয়টি জানালেও এখনো সমাধান হচ্ছে না। তাই সমাবেশ ও মানববন্ধনে নেমেছি।

এসময় টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাভার আশুলিয়া ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রতন হোসেন মোতালেব বলেন, সারা মাস শ্রম দিয়ে টাকার জন্য মানববন্ধন ও সমাবেশ করা অত্যন্ত অমানবিক। শ্রমিকরা সারা মাস কাজ করে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলবো দ্রুত শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করার জন্য। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তিনি।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাভার আশুলিয়া ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি শাহ আলম, সাভার থানা কমিটির সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী আঁখি, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাভার আশুলিয়া ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমদ জীবন।

প্রসঙ্গত, এই আল আমীনের বিরুদ্ধে ঘর দেওয়ার কথা বলে গরীব সাধারণ মানুষের প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আল-আমীনের কু-কর্ম উঠে আসে।