৭ মার্চ, ৭ কোটি মানুষের ভাষণ ছিল

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ , মার্চ ৬, ২০২১

সাইদুর রহমান :
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল সাতকোটি বাঙালীর শতবছরের পুন্জিভূত চাওয়ার পাওয়ার প্রতিবিম্ব। ৭ মার্চ ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা স্পষ্ট ছিল। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমুদ্রে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন । তিনি সাতকোটি মানুষের মুক্তির সনদ অথবা বাংলাদেশর মানুষের সংস্কৃতির অন্যন্য দলিল প্রদান করলেন। প্রকৃত পক্ষে তিনি ৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ৭ মার্চের ১৮ মিনিটের ভাষণের সারমর্ম বুঝার স্বার্থে বিশ্বের এ পর্যন্ত বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইতিহাস নিজের অঙ্গ নিজে ছেদ করেনা । শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসের তেমন এক অচ্ছেদ্য অঙ্গ।শুধু বাঙালীর ইতিহাসে নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও তিনি অচ্ছেদ্য ।

এই কালজয়ী ভাষণ এখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ভাষণ গুলির মধ্যে স্হান করে নিয়েছে । অবশ্য ৭ মার্চের ভাষণের পর স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠের কোন প্রয়োজন ছিল না ।তবে পরবর্তীতে ঘোষণা পাঠের একটাই লক্ষ ছিল মুক্তিকামী জনতা ও মুক্তি যুদ্ধাদেরকে মানসিক ভাবে চাঙ্গা রাখা । পাশাপাশি পাকিস্হানী বাহিনীকে দুর্বল করার একটা কৌশল মাত্র । বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন । এই ঘোষণাটি বাংলাদেশর সর্বত্রই ওয়্যারলেস, টেলিফোন, টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় । এই ঘোষণার জন্য পাকিস্হানী সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসা থেকে রাতেই গ্রেফতার করে । ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্রগ্রামের বেতার কেন্দ্রের কয়েক জন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে মাইকিং করে এ ঘোষণা পত্র প্রচার করেন । ইতিহাস অতীতে কাউকে ক্ষমা করেনি ভবিষতেও করবে না । প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা পত্রটি পাঠ করেন। সুতারাং ঘোষক আর পাঠক এক জিনিস নয় ।