জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের খেতাম ‘বীর উত্তম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। একই সাথে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেহ উদ্দিন ও রাশেদ চৌধুরীর রাষ্ট্রীয় খেতাবও বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর স্কাউট ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর জিয়াউর রহমানে খেতাব বাতিল হলে তাদের সব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাও বাতিল হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নূর চৌধুরীর নামের সঙ্গে ‘বীর বিক্রম’, মোসলেহ উদ্দিনের নামের সঙ্গে ‘বীর প্রতীক’, রাশেদ চৌধুরীর নামের সঙ্গে ‘বীর প্রতীক’ ও শরিফুল হক ডালিমের নামের সঙ্গে ‘বীর উত্তম’ উপাধি ছিল।

সভায় জামুকার সদস্য ও সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের খেতাব বাতিলের পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের পক্ষে মতামত দেন। সভায় সবাই এ বিষয়ে একমত হন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জামুকার সদস্য শাজাহান খান এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের খেতাব বাতিলের বিষয়টি সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ যাচাই-বাছাই ও বাতিল-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তখন এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর জিয়াউর রহমানসহ সবার খেতাব ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।

তিনি আরও বলেন, অপরাধের জন্য জিয়াউর রহমান শাস্তি পাবে। বিশ্বে অনেকের পুরস্কার ও ডিগ্রি প্রত্যাহার করা হয়। তাদের হয়তো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাদ দেওয়া যাবে না। তবে খেতাব বাদ দেওয়া যাবে।

এছাড়াও ৭২তম সভায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আরও যে মদদদাতা রয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। অন্য দুই সদস্য হলেন উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, শাজাহান খান, মো. শহীদুজ্জামান সরকার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রশিদুল আলম ও মেজর (অব.) ওয়াকার হাসান বীর প্রতীক।