ক্ষমতা প্রদর্শনে গুলি: অস্ত্র তৈরীর কারখানার সন্ধান ও নেপথ্যে টিপু বাহিনী

প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৩১, ২০২১

চ.সি.ক নির্বাচনের পরদিন ২৮ শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ভোট নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বংশাল পাড়ায় শাহ আলম নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করেন মোস্তাফা কামাল টিপুর অনুসারী নিজাম খান। ডবলমুরিং থানার ওসি মোঃ মহসিন জানান, নিজাম খাঁন ও শাহ আলম স্থানীয় দুজন ব্যক্তি। সিটি করপোরেশনের ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। শাহ আলম জানিয়েছেন ভোটের আগেরদিন নিজাম তাকে হুমকি দেন। এরপর গত (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার দিকে বংশালপাড়া এলাকায় নিজাম হত্যার উদ্দেশে শাহ আলমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাহআলম প্রাণে বেঁচে যান। গুলির শব্দ শুনি আমরাও। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোটে প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করতে নিজাম তার বাসার ছাদে অস্থায়ী কারখানাটি গড়ে তুলেছিলেন। ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গুলির শব্দে এলাকার মানুষ যখন বেরিয়ে আসে তখন নিজাম পালিয়ে যায়। আমরা তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছি। নিজামকে গ্রেফতার করতে পারলে সে কেন অস্ত্রের কারখানা করেছে, কার কাছে বিক্রি করেছে, ক্রেতা কারা ছিল- এসব বিষয় জানতে পারব। তবে বিরোধটা ভোট নিয়ে এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আগ্রাবাদের কিশোর গ্যাং লিডার মোস্তফা কামাল টিপু মূলত স্থানীয় নজরুল ইসলাম বাহাদুরের হয়ে কাজ করেন। বাহাদুর চসিক নির্বাচনের কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন টিপু। কারও সাথে মতের অমিল দেখা দিলেই টিপু যে কারও উপর হামলা করেন অনায়াসেই। তার বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানা সহ বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মারামারি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। সর্বশেষ জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রকাশ মারুফ চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোস্তাফা কামাল টিপু। পাঠানটুলি ও আগ্রাবাদ এলাকায় অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে নিজস্ব আস্তানা বানিয়েছেন। টিপু নিজেকে ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। টিপু ডবলমুরিং থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি, আগ্রাবাদ গণপূর্ত ভবনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টিপুর বিরুদ্ধে আছে ছিনতাই, অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বলেন, টিপুর একান্ত বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে তার সকল অপকর্মে ইয়াবা মাহাবু প্রকাশ বাবা মাহাবু, রমজান, রাব্বি, ফয়সাল খান, বিষু বড়ুয়া, জিয়া, নুরনবী, সাঈদ, ইকবাল, শাহেদ, বিপ্লব, সাইফুল সহ কয়েকজন উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের ভয়ে সাধারণ মানুষ জিম্মি। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ এলাকায় কুঁকড়ে থাকেন। গত বছরের ১২ ই নভেম্বর রাতে নগরীর আগ্রাবাদ হোটেল এলাকায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রকাশ মারুফ চৌধুরী নামে ওই যুবলীগ কর্মীকে বাটামের আঘাতে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষরা। পরদিন নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বোন রোজী চৌধুরী বাদী হয়ে কিশোর গ্যাং লিডার টিপু সহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এদিকে সিটি নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় গণসংযোগ করতে যাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদের ও দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের অনুসারীদের সাথে সংগঠিত মারামারিতে বাবুল সরদার নামের একজন গুলিতে নিহত হয়। এ ঘঠনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি এখনও উদ্ধার নাহলেও স্থানীয়দের বক্তব্য নিজাম খান এই অস্ত্রের যোগানদাতা। মোস্তাফা কামাল টিপুর নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন সাবেক কাউন্সিলর কাদেরের স্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী পূর্ব নির্ধারিত গণসংযোগে মগপুকুর পাড় গিয়েছিল, তবে রহস্যজনক ভাবে নজরুল ইসলাম বাহাদুর দলবল নিয়ে দীর্ঘ একঘণ্টার বেশী সময় ধরে টিপুর বাসায় অবস্থান করেছিলেন কি উদ্দিশ্যে?