আগামীকাল বাউল সাধক আব্দুল মজিদ তালুকদার এর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী 

প্রকাশিত: ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ , জানুয়ারি ৪, ২০২১

এস এম শফিক: নেত্রকোনার কিংবদন্তি, বাউল সাধক প্রয়াত আব্দুল মজিদ তালুকদার এর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল ৫ জানুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনা জেলা শহরের উদীচি কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আব্দুল মজিদ তালুকদার শিল্পীগোষ্ঠী । অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা সহ দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গণ অংশগ্রহণ করবেন ।

আব্দুল মজিদ তালুকদার লোকায়ত নেত্রকোনার সমাজ সংস্কৃতিতে একটি অবিস্মরনীয় ধ্রুপদী নাম । গত চল্লিশের দশকে আব্দুল মজিদ তালুকদার তাঁর গানের ভেতর দিয়ে যে মরমী ভুবন নির্মাণ করেছেন, তা সমকালকে যেমন উত্তরকালকেও তেমনি বিস্মিত-মুগ্ধ-অভিভূত করেছে । গানই ছিল তার আনন্দ উপলব্ধি; গানই ছিল তাঁর জীবন দর্শন। তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও, পাকিস্তান বেতার, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও গ্রামোফোন রেকর্ড সহ নানা মাধ্যমের একজন প্রথম সারির গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। তার লেখা প্রায় সাড়ে ছয়শত গানের সংকলন ও তার জীবন তত্ত্ব নিয়ে অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা স্যার এর সম্পাদনায় প্রকাশিত সংকলন মজিদ গীতি সমগ্র বইয়ের ভূমিকায় মজিদ গীতির সংগ্রহকার ও সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা উল্লেখ করেন, নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ অঞ্চলের সমস্ত কথাই যেন আব্দুল মজিদ তালুকদার তাঁর গানে বলে গেছেন । এমনকি পল্লীবাসী জীবন নিয়ে বলার মতো অবশিষ্ট আর কিছুই যেন বাকি রাখেননি মরমী কবি আবদুল মজিদ তালুকদার । তিনি তার জীবনভর এই সমাজ-সংহতি, নর-নারীর জীবনের পলে পলে যা দেখেছেন, যা অনুভব করেছেন তাকেই বাণী দান করেছেন, তার মনের ভাষায়, তারই গানে । ফলে আব্দুল মজিদ তালুকদার এর মত লোককবির দ্বারাও পরিণতি লাভ করেছে নেত্রকোনা জেলার লোকসংগীত ।

আব্দুল মজিদ তালুকদার বিশ শতকের শুরু থেকে নেত্রকোনা এলাকার সাম্যবাদের গান, গোষ্ঠীবদ্ধ গ্রামীণ সমাজের গান তুলে ধরেছেন লোক মানুষের জন্য । এই বাংলার সৌন্দর্য তার গানে কাব্যের সুরে চিত্রে পুষ্ট হয়েছে । বাউল সুষমা ধ্যানে নিজের জীবনের মধ্যে গ্রহণ করে জীবনটাই কাটিয়েছেন বাউলিয়ানায় । মজিদ তালুকদার এর জীবনে ঐতিহাসিক অর্জন ছিল প্রচুর । ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে নেত্রকোনার নাগড়ার মাঠে অবিভক্ত ভারতবর্ষের ‘সর্বভারতীয় কৃষক সম্মেলন’ এ গান পরিবেশন করেন । বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শুরুর দিকে ‘রাষ্ট্র ভাষা চাই’ গান লিখা ও পরিবেশন করা, ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ‘কাগমারির সম্মেলন’ এ অংশগ্রহণ করা এবং ছয়দফা, এগারদপা ও মুক্তিযুদ্ধ এর মতো ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে গান পরিবেশন করে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি ।

তার ঘটনাবহুল জীবন ও কর্মের কথা “মজিদ গীতি সমগ্র” গ্রন্থের প্রথম অংশে বর্ণিত হয়েছে ।

বাউল সাধক মরমী কবি আব্দুল মজিদ তালুকদার ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১৩০৫সাল) ৫ জানুয়ারি বর্তমান নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ইউনিয়নের গ্রামের এক রক্ষণশীল সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা- হাজী আমছর তালুকদার, মাতা- মৌলানা মগলের মা । চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে আব্দুল মজিদ তালুকদার ছিলেন সবার বড় । তিনি ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ শে জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

নেত্রকোনার কিংবদন্তি এই বাউল সাধক, মরমী কবি আব্দুল মজিদ তালুকদার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন । তাদের মধ্যে ছোট পুত্র আবুল বাসার তালুকদার বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত । বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন আবুল বাসার তালুকদার । কন্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে । তিনি দেশবাসীর কাছে তার বাবা মরমী কবি আব্দুল মজিদ তালুকদার এর জন্য দোয়া চেয়েছেন ।