সিলেটের গোলাপগঞ্জ মুক্ত দিবস

প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ১২, ২০২০

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর। ইতিহাসের আজকের এই দিনে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা শত্রু মুক্ত হয়। দীর্ঘ ৯ মাস বাঙালি জাতি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীনের প্রায় ৪দিন আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা গোলাপঞ্জ চৌমুহনীতে উড্ডয়ন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএন চৌধুরী হুমায়ূন।

ওইদিন মুক্তিযোদ্ধারা সুতারকান্দি-বিয়ানীবাজার হয়ে ভোর হওয়ার কিছুক্ষণ আগে উপজেলার নালিউরি গ্রামে এসে অবস্থান নেয়। নালিউরি গ্রাম থেকে মাত্র দেড় মাইল উত্তরে ঢাকাদক্ষিণ বাজারে পাকিস্থানি বাহিনী ও রাজাকারদের ঘাঁটি ছিল। বিকেলে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা রেকি করতে পরিকল্পনা মতো বেরিয়ে পড়েন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, তখন একটি হিন্দুবাড়িতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সে সময় একজন বালক এসে খবর দেয় পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর কয়েকজন সেনা নিয়ে একটি বাস ভাদেশ্বরের দিকে যাচ্ছে। এ সংবাদ পাওয়া মাত্র মুক্তিযোদ্ধারা সেই ছেলেটির সহযোগিতায় রাস্তায় গিয়ে একটি অ্যান্টিট্যাংক মাইন পুতে রাখেন। বাসটি ফিরে এসে মাইনের ওপর ওঠা মাত্রই তা বিস্ফোরিত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় দুজন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্য। বাকিরা লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের মুকিতলা গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। ওইদিন দুপুরে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএন চৌধুরী হুমায়ূন থানা সদরে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন।

এসময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এবং মুক্তিকামী জনতা অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশের মতো এভাবেই পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে পাকহানাদার মুক্ত হয় গোলাপগঞ্জ। ত্রিমুখী আক্রমনে পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। গোলাপগঞ্জ, সিলেট, ঢাকা সহ একের পর এক জায়গা পাকহানাদার মুক্ত হতে থাকে। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে বাংলাদেশ। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।