একজন সাদা মনের মানুষ আহমেদ বকুল

প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৩০, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আহমেদ বকুল (৫২)। পেশাগতভাবে তিনি একজন সাংবাদিক। কবি, গীতিকার ও একজন গবেষক হিসেবে তাঁর রয়েছে সুখ্যাতি। তিনি একজন তথ্যচিত্র নির্মাতাও। প্রায় ১৬ টির মত তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। তিনি অনেক রোগীর চিকিৎসা করিয়েছেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত সিলেট মিডিয়ার মাধ্যমে। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করেছেন।
আহমেদ বকুল পেশাগত কাজের পাশাপাশি অনেক সামাজিক কর্মে রাখছেন বলিষ্ঠ অবদান। ১৯৯৮ সালে সিলেট মিডিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তা প্রদান করেছেন। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীকে অপারেশন করিয়েছেন।

সামাজিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি অবাক করার দিক হলো তিনি বিগত ১৫ বছর যাবত রাস্তা থেকে লোহা কুড়িয়ে চলেছেন। প্রথমে হাত দিয়ে লোহা কুড়ালেও বর্তমানে তিনি বাঁশের লাঠির মাথায় চুম্বক লাগিয়ে লোহা কুড়ান। এ কাজটি তিনি প্রতিদিন সকালবেলা করে থাকেন। কেন তিনি লোহা কুড়ান এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, একটাই কারণ যে সমস্ত লোহা রাস্তায় পড়ে থাকে সেই লোহা অজ্ঞাতসারে কারো পায়ে বিঁধে যেতে পারে। তকন ধনুষ্টংকার রোগ হতে পারে। সময়মতো টিটেনাস না নিলে রোগী মারা যেতে পারে। তাছাড়া গাড়ির টায়ার লোহার আঘাতে লিকেজ হয়ে যায়। এ কারণে তিনি প্রতিদিন লোহা কুড়ানোর কাজটি করে থাকেন। বকুল বলেন, প্রতিদিন একটি ভালো কাজ দিয়ে দিন শুরু করা উত্তম। আমি প্রতিদিন লোহা কুড়ানোর মাধ্যমে দিনের কাজ শুরু করি। এতে আমার ভালো লাগে। কোন টাকা খরচ লাগে না। অথচ একটি ভালো কাজ হয়ে যায়।
আহমেদ বকুল, করোণা শুরু
হবার পর থেকে সুরক্ষার জন্য একটি সচেতনতামূলক মিউজিক ভিডিও করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে কে প্রদান করেন। এর জন্য তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।এই গানটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট সহ বিভিন্ন চ্যানেল এবং কেবল অপারেটর লাইনে এখন পর্যন্ত বেজে চলেছে। তাঁর এই মহৎ কাজের জন্য দেশের অনেক মানুষ সচেতন হয়েছে। তাঁর কাজের প্রশংসা করে তথ্য মন্ত্রণালয় ধন্যবাদপত্র জ্ঞাপন করেছে।

বিভিন্নভাবে সিলেট মিডিয়ার উপকারভোগীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব রাহাত আনোয়ার তা তদন্ত করে সিলেট মিডিয়াকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান প্রদান করার জন্য সুপারিশ করেন। করোনার সময় সিলেট মিডিয়া প্রায় পাঁচ শতাধিক মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার কে খাদ্য সামগ্রী উপহার প্রদান করে।
বর্তমানে সিলেট মিডিয়ার একটি প্রকল্প চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গরীব অসহায় করোনা রোগীদেরকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
কর্মসূচিতে রয়েছে, ওষুধপত্র ক্রয় করে দেয়া,ইমিউনিটি সিস্টেম বৃদ্ধির জন্য ফলফ্রুট কিনে দেয়া, ঔষধ সামগ্রী কিনে দেয়া, তিন মাস পর্যন্ত গরিব করোণা রোগীর পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী উপহার দেয়া। করোণায় কোন গরীব রোগী মারা গেলে তার পরিবারকে দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য এককালীন অনুদান প্রদান করা ।
(অনুদান প্রদান অবস্থা বিবেচনায় ধার্য করা হয়)।সিলেট মিডিয়ার কার্যক্রমে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ভূয়শী প্রশংসা করেন। এবং দায়িত্ব পালনকালে সময় আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট মিডিয়াকে বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে আহমেদ বকুল বলেন, প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবে অনেক সময় রোগীদেরকে ঠিকমতো সহায়তা করা সম্ভব হয়ে উঠে না। যার জন্য মন্নো কষ্টে বুকে ভুগে থাকেন।