পার্বতীপুরে রেলওয়ে পশ্চিমজোনের প্রথম ডিজিটাল পে অফিস

মনজুরুল হক মঞ্জু মনজুরুল হক মঞ্জু

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ২৬, ২০২০

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্বতীপুর রেলওয়ে পে-অফিসে স্থানীয় সাংবাদিক ও পেনশন হোল্ডার কল্যান সমিতির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় এ কথা জানিয়েছেন- রেলওয়ের পশ্চিমজোনের অর্থ উপদেষ্ঠা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা জামশেদ মিনহাজ রহমান। পার্বতীপুর রেলওয়ে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) বিভাগীয় অর্থ উপদেষ্টা ও হিসাবরণ কর্মকর্তা গোলাম আজমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পশ্চিমজোনের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাবরণ কর্মকর্তা (অর্থ) কামাল ইউসুফ, সহকারী হিসাব রন কর্মকর্তা (অর্থ ও পেনশন) আনোয়ার জাহিদ এবং বিভাগীয় হিসাব রন কর্মকর্তা (সৈয়দপুর) প্রদীপ দত্ত।
এসময় পার্বতীপুরের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় জানানো হয় আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পার্বতীপুর রেলওয়ে পে- অফিসের আওতাধিন পেনশনারদের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন হিসাব বিভাগের কর্মকর্তারা।
কোন দপ্তর প্রধানের কাজ ও আচরনে যদি সততা, স্বচ্ছতা ও ঐকান্তিক চেষ্ঠার প্রতিফলন থাকে, তবে ওই দপ্তরের সকল কার্যক্রম যে অনিয়ম ও দূর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হতে পারে তার জলন্ত উদাহরন রেলওয়ের পশ্চিমজোনের অর্থ উপদেষ্ঠা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা জামশেদ মিনহাজ রহমানের অধিনস্থ এ জোনের ২০ বিভাগীয় পে অফিস সমুহ।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এবছরের আগষ্ট মাসে পার্বতীপুর রেলওয়ে পে অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেতন ও পেনশন অর্থ বিতরনে অনিয়ম, দূর্নীতি ও উৎকোচ গ্রহনের নানা অভিযোগ ছিল। বিষয়টি রেলওয়ে পশ্চিমজোনের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তার নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে পার্বতীপুর পে অফিসের তৎকালিন বিভাগীয় বেতন ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও পার্বতীপুর রেলওয়ে পে অফিসের পে সহকারী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট হতে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহন ও নিয়মন লংঘন করে অর্থের বিনিময়ে মৃত পেনশন ভোগি ও তাদের মৃত উত্তরাধিকারীদের মাঝে পেনশনের অর্থ বিতরনের নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা প্রমানিত মিলে। এতে জড়িত দু’জনকে ওই সময় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ সময় পার্বতীপুরের বিভাগীয় বেতন ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৬ ও পার্বতীপুর পে অফিসের পে সহকারী কামাল হোসেনের কাছ থেকে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৮২ টাকাসহ আত্মসাত করা ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮২৮ টাকা উদ্ধার করা হয়। শাস্তি হিসেবে তাদের দুটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ ও সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে তাদের বিরত রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পশ্চিমজোনের ২০ পে অফিসে শুরু করা হয় কঠোর শুদ্ধি অভিযান।
রেলওয়ের পশ্চিমজোনের অর্থ উপদেষ্ঠা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা জামশেদ মিনহাজ রহমান বলেন- এঘটনার পর সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে কর্মসূচির সাথে সংগতি রেখে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন ও পেনশন বিতরন কার্যক্রম পরিচালনা উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। ইতিমধ্য পার্বতীপুর পে অফিসে পরিপুর্ন ডিজিটাল পে অফিসে রুপান্তরিত করা হয়েছে। পার্বতীপুর পে অফিসের আওতাধিন ৭৫১ পেনশন ভোগির গত সেপ্টম্বর ও অক্টোবর মাসের পেনশনের অর্থ অনলাইনে তাদের নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়েছে। পার্বতীপুর ডিজিটাল পে অফিসকে মডেল ধরে পর্যায়ক্রমে পশ্চিমজোনের প্রতিটি ডিজিটাল পে অফিস হিসাবে রুপান্তরিত করা হবে। যাতে কেউ কোন ভাবে বেতন ও পেনশন বিতরনে অনিয়ম ও দূর্নীতি করতে না পারে।