করোনার নমুনা পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিজেকে অনিরাপদ করবেন না !

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ , জুন ১, ২০২০

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন ,কোন সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না ,একজনের সাথে একজনের ধাক্কাধাক্কি গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়ানো , সবচেয়ে করুণ দৃশ্য দেখা যায় লাইনে দাঁড়িয়ে এন্ট্রি করার পর ডাক্তার সাহেব যে রুমে পরীক্ষা করেন তার রুমের সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছেন তারাতো সামাজিক দূরত্ব বাদই দিলাম যেভাবে প্রতিযোগীতা (কার আগে কে যাবে)চলছে তাতে যারা সর্দি কাশি নিয়ে ভয়ে নমুনা পরীক্ষা করতে যাচ্ছেন ,তারাতো আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা আছে ।
সবচাইতে করুণ পরিষ্থিতি যেখানে নমুনা নেওয়া হয় সেখানে । যে ব্যক্তি নমুনা নিচ্ছেন তার হাতের গ্লাভস আছে ।যিনি নমুনা দিচ্ছেন তার মুখে হাত দিয়ে একমুখো করে করে নাক এবং মুখ থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে । একের পর এক নমুনা নিয়ে যাচ্ছেন । কয়েক জনের নেওয়ার পর গ্লাভসে জীবানানাষক স্প্রে করছেন । একের পর একজন করে যে তাদের মুখ হাত দিয়ে নাক/মুখ থেকে নমুনা নেওয়া হলো তাদের মধ্যে যেকোন একজনের যদি করোনা পজেটিভ থাকে তাহলে তার ভাইরাস দ্বিতীয় জন বা যাকে ধরা হচ্ছে তার শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা ১০০% , দ্বিতীয়তঃ যে চেয়ারে একজনের পর একজন বসিয়ে শতাধিক মানুষের নমুনা নেওয়া হচ্ছে সেখানে থেকেও ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে কারণ করোনা ভাইরাস ছোয়াচে । চেয়ারে করোনা ভাইরাস কয়েক ঘন্টা জীবিত থাকে ।
তবে শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোন সদস্যকে দেখা গেলো না।
এখন আপনি চিন্তা করুন প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া চিকিৎসা নিবেন নাকি করোনার নমুনা পরীক্ষা দিয়ে করোনা বহন করে বাসায় নিয়ে আসবেন এবং পরিবারের সবাইকে করোনা ভাইরাস সরবরাহ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবেন।

নমুনা পরীক্ষা না করে ঘরোয়া চিকিৎসা গুলো গ্রহন করতে পারেন :যেমন গরম পানির ভাপ নেওয়া, রং চা খাওয়া, গলা গাল গাল করা এবং ভিটামিন সি খাওয়া ।

করোনার ঘরোয়া চিকিৎসা

সর্দি জ্বর, গলা ব্যথা, বা কাশি হউক নিয়ে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসাঃ
১) আদা, লেবু, তেজপাতা, এলাচি, লং, দাড়চিনি একটি পরিস্কার পাত্রে পানিতে ১৫ মিনিট ফুটাতে থাকুন। সাথে আস্তা লেবু ২টা।
২) ফুটানো চলাকালে নিরাপদ দূরত্বে থেকে কমপক্ষে ৫ মিনিট গরম বাষ্পনাক দিয়ে লম্বা টেনে মুখ দিয়ে বের করতে হবে। দৈনিক এভাবে ৪ থেকে ৫ বার গ্রহন করুন।
৩) তারপর এই ফুটন্ত আদা, লেবু, তেজপাতা ইত্যাদির মিক্স গরম পানি চায়ের মতো করে ১ ঘন্টা পরপর পান করতে থাকুন।
৪) সাথে খেতে পারেন নাপা এক্সটেন্ড জাতীয় ঔষধ।
৫) ফুসফুসকে ভাল রাখার জন্য বাসায় বা বাসার বারান্দায় বসে মুক্ত বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যয়াম করুন কমপক্ষে দৈনিক দুবার। নাক দিয়ে লম্বা নিশ্বাস গ্রহন করুন যতোবেশী নিতে পারেন নিন তারপর যতোক্ষণ আটকিয়ে রাখতে পারেন রাখুন। তারপর আস্তে আস্তে মুখ দিয়ে দম ছাড়ুন। এভাবে ১০ বার করুন।
৬) প্লেটে আদা কেটে সামান্য লবন দিয়ে রাখুন। মুখে দিন একটু পরপর।
৭) আধা ঘন্টা পর পর গরম চা, গরম দুধ, কফি, গ্রিন টি পান করুন। গলা কোনভাবেই শুষ্ক রাখা যাবেনা।
মনোবল হারালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই আপনার যা ভালো লাগে তাই করবেন মনোবল চাংগা রাখার জন্যে।
উপরোক্ত পদ্ধতিতে আপনি ২ দিন চিকিৎসা নিলে এটা পরীক্ষিত সত্য যে তৃতীয় দিনের দিন আপনার করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়ার সম্ভবনা আছে। ইনশাআল্লাহ। আপনি সুস্থ হয়ে অবশ্যই এটি শেয়ার করে অন্যকে সুস্থ হতে সহযোগিতা করুন।

(বি:দ্র: আমি কাউকে অনুৎসাহিত করার জন্য নয় সতর্ক থাকার জন্য এই লেখাটি লিখেছি)