ফরিদপুরে জেলা প্রশাসককে হুমকি এবং এসিল্যান্ডকে গালিগালাজ করার অভিযোগ সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১২, ২০২০

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে গালি-গালাজ ও জেলা প্রশাসককে প্রকাশ্য সমাবেশে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। উদ্ভুত ঘটনায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ফরিদপুর জেলা শাখা সভা করে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তপে কামনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

 

জানা গেছে, গত শনিবার উপনির্বাচন চলাকালে একটি কেন্দ্রের বুথের মধ্যে একজন পোলিং এজেন্টকে আটক করেন ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি)। এরপর নিক্সন চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানাকে মোবাইলে ফোন করেন। এ ঘটনার পর ওই ফোনালাপের একটি অডিও বার্তা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে শোনা যায় এমপি নিক্সন চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করছেন এবং বিষয়টি দেখে নেয়ার জন্য পাঁচ মিনিটের মধ্যে চরভদ্রাসনে আসবেন বলে জানাচ্ছেন। একই সাথে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় জনগণ নিয়ে ঘেরাওয়েরও হুমকি দেন।

 

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা বলেন, বুথের ভিতর সিগারেট খাওয়া ও জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করায় একজন এজেন্টকে আটক করা হয়। এরপর সাংসদ ফোনে আমাকে হুমকি ধামকি দিলে আটককৃত ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ ব্যাপারে মুজিবর রহমান চৌধুরী বলেন, ভাঙ্গার এসিল্যান্ড তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় তিনি খুব ক্ষুব্ধ হন। বিষয়টি ইউএনও কে জানান এবং ইউএনও ফোন করে জানান এসিল্যান্ড ফোন ধরছেন না। তখন এসিল্যান্ডের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু কথাবার্তা বলেন।

 

এদিকে ওই নির্বাচন শেষে রাতে ফলাফল ঘোষনার পর একটি বিজয় সমাবেশ হয় চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। সেখানে এমপি নিক্সন চৌধুরী জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অসহযোগীতা করার নানা অভিযোগ করে তাঁকে ‘দাতভাঙ্গা জবাব’ দেয়ার হুমকি দেন। এই সমাবেশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। সেখানে দেখা যায় সাংসদ নিক্সন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলছেন, প্রশাসনের মধ্যে লুকাইয়া থাকা ওই জেলা প্রশাসক এ নির্বাচনে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নৌকার কর্মীদের গ্রেফতার করছে, পিটাইছে।

 

‘ওই জেলা প্রশাসক একজন রাজাকার’-মন্তব্য করে নিক্সন চৌধুরী তার নেতাকর্মীদের যেখানে পাইছে সেখানেই হামলা করছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি জেলা প্রশাসককে নিক্সন চৌধুরীর সাথে চোখ রাঙ্গাইয়া কথা বলবেন না বলে সাবধান করে দেন। নিক্সন চৌধুরী বলেন, উনি (জেলা প্রশাসক) এক উপদেষ্টার ভয় দেখায়। উনি মনে করে ওই উপদেষ্টাই ওনার মতা। আরে এমন কত উপদেষ্টা দেখলাম মিয়া! জাফরউল্লাহ কাজীরই বেল নাই আর আপনি উপদেষ্টার ভয় দেখান।

 

সাংসদের বক্তব্যের বিষয়ে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, বিষয়টি শিষ্টাচার বহির্ভ‚ত। একজন সংসদ সদস্যের নিকট থেকে এ জাতীয় বক্তব্য অপ্রত্যাশিত।

 

এদিকে মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও বিজয় সমাবেশে এভাবে জেলা প্রশাসকে হুমকির ঘটনায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ফরিদপুর জেলা শাখা এক সভা করে রোববার। জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব আনা হয় এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তপে কামনা করা হয়।

 

প্রসঙ্গত চরভদ্রাসন উপজেলার উপ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওসার হোসেন বিজয়ী হন। তাঁকে নির্বাচনের আগেই সমর্থন দেন নিক্সন চৌধুরী এমপি। তার নিকটতম প্রতিদদ্বী ছিলেন কে এম ওবায়দুল বারী দিপু খান।