করোনার এ মহাসংকটে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মানবেতর জীবনযাপন

সুস্থির সরকার সুস্থির সরকার

বিভাগীয় প্রধান ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান বাবুল,  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:

আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গর্ব করার মতো। আমাদের আছে হাজার বছরের পুরনো বাংলা ভাষা, আছে সংগীত, আছে বাদ্য,নৃত্য, চারুকলা এবং সুকুমার শিল্পের আরও নানান শাখা। সংস্কৃতি সদা চলমান, নিত্য বহমান, নিরন্তর বিকাশমান। আর তাতেই সংস্কৃতির সৌন্দর্য,তাতেই শিল্পের গরিমা। সংস্কৃতিবান মানুষ সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি আর অসুস্থ প্রতিযোগিতার এ বর্বর বিশ্বকে সত্য ও সুন্দরের আলোয় উদ্ভাসিত করে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার মহান প্রত্যয়ে এগিয়ে চলে সংস্কৃতিবান মানুষ। সে-সব আলোকিত মানুষ আজ বৈশ্বিক করোনা সংকটে সুকুমার চর্চা থেকে চিটকে পড়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংস্কৃতি প্রেমী লাখো মানুষ আজ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে কিন্তু কে তাঁদের খবর রাখে। নেই কোন বটতলার মেলায় সান্ধ্য গানের অনুষ্ঠান, নেই কোন মঞ্চে জনতার মনমাতানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল বিদ্যমান থাকলেও এমন পরিস্থিতিতে নেই কোন অনুষ্ঠান নির্মাণ পরিকল্পনা, শিল্পীদের ডাক নেই কোন টেলিভিশন চ্যানেলে,শহুরে কিছু শিল্পী নিচক কিছু অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেও বিস্তৃত অঞ্চলের শিল্পীদের সীমাহীন দুর্ভোগ চলছে। শিল্পী মানুষ সম্মানের লজ্জা ক্ষুয়ে পারেনা কারও কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতে। করোনা কালে চলছে তাঁদের বড়ই কষ্টের জীবন। এমন সংকটে এ শিল্পী সমাজকে বাঁচিয়ে না রাখলে ঐতিহ্য গাঁথা বাংলা সংস্কৃতি বাঁচবে কি করে?অবহেলিত অসহায় এ শিল্পীদের দেখবে কে? এমন প্রশ্ন রেখে সংশ্লিষ্ট মহলকে এ মহা সংকটকালীন সময়ে দেশব্যাপী শিল্পীদের প্রণোদনা দানের উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।