অল্প যত্নেই খুশি সুন্দরী মানি প্ল্যান্ট গাছ

প্রকাশিত: ২:০৫ অপরাহ্ণ , মে ২৯, ২০২০

মানি প্ল্যান্ট ঘর সাজানোর জন্য একটি খুব সুন্দর বাহারী গাছ। ঘরের বাতাস শুদ্ধ রাখতেও এই গাছ সহায়ক। এই গাছের জন্য বিশেষ যত্ন আত্তির প্রয়োজন হয় না। একরকম বিনা যত্নেই রূপের ছটা ছড়িয়ে তরতরিয়ে বেড়ে ওঠে এই গাছ। অনেকের বিশ্বাস, ঘরে মানি প্ল্যান্ট গাছ রাখলে নাকি কোনো না কোনো ভাবে গৃহস্থের আর্থিক উন্নতি অবধারিত।

মানি প্ল্যান্ট গাছ: পরিচয়

মানি প্ল্যান্ট একটি লতানে চিরসবুজ গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Epipremnum aureum। আদিভূমি পলিনেশিয় দ্বীপ থেকে এখন এ গাছ প্রায় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ গাছে ফুল হতে দেখা না গেলেও আদতে কিন্তু এটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। আসলে গাছটিতে একটি বিশেষ জিন (জিব্বারেলিন উৎপাদনকারী জিন, gibberellin biosynthetic gene) অকেজো থাকায় এই গাছে খুব কমই ফুল ফুটতে দেখা যায়। ১৯৬৪ সালে সর্বশেষ মানি প্ল্যান্ট গাছে স্বাভাবিক ভাবে ফুল ফোটার খবর শোনা গেছিলো। তবে বাইরে থেকে বিশেষ হরমোন প্রয়োগে এই গাছে ফুল ফোটানো সম্ভব।

মানি প্ল্যান্ট গাছটির মূল আকর্ষণই হলো একরাশ ঝলমলে পাতা। সবুজ পাতাগুলোর ওপর হলুদ, হালকা সবুজ বা সাদা রঙের বিচিত্র ছাপ থাকে। বাগানের মাটিতে এই গাছ লাগালে ৬০-৬৫ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। তবে টবে লাগালে এই গাছ সাধারণত ৫-৬ ফুটের বেশি বাড়ার সুযোগ পায় না।

মানি প্ল্যান্টের উপকারিতা

ঘর সাজানোর ইনডোর গাছ হিসেবে সুদৃশ্য পাতার এই গাছ জনপ্রিয় [ছবি: । এক রাশ বাহারি পাতা নিয়ে এই গাছ যে কোনো ঘরে রূপের আভা ছড়িয়ে দেয়।

কিন্তু মানি প্ল্যান্টের গুণ শুধু এটুকুই নয়। এই গাছ একটি ভালো বায়ু শোধনকারী গাছ। ঘরে রাখলে এই গাছ ঘরের বাতাস থেকে অনেক ক্ষতিকর যৌগ দূর করে। যেমন, ফরম্যালডিহাইড, বেনজিন, জাইলিন, টলুইন ও ট্রাইক্লোরোইথেন। অনেকে অ্যাকোয়ারিয়ামের ওপর এই গাছ রেখে জলের মধ্যে শিকড়গুলি বাড়তে দেন। এই শিকড়গুলি নাইট্রেট লবণ শোষণ করে অ্যাকোয়ারিয়ামের জলের গুণমান ভালো রাখে।

মানি প্ল্যান্ট গাছের যত্ন

মানি প্ল্যান্ট গাছ লাগানো খুব সহজ। গাছটির ডাল কেটে নরম মাটিতে পুঁতে দিলে কয়েক দিনের মধ্যেই শিকড় বেরিয়ে নতুন গাছ তৈরি হয়ে যায়। এই গাছের জন্য যত্ন আত্তির বিশেষ দরকার পড়ে না। টবে লাগালে টবের মাটি তৈরির সময় জৈব সার মেশাতে হবে। প্রতি বছর টবের মাটি বদলে দিতে পারলে ভালো হয়। মানি প্ল্যান্ট গাছ হাইড্রোপোনিক কালচার বা জলীয় দ্রবণেও খুব ভালো বাড়ে।

এই গাছে নিয়মিত জল দেওয়া দরকার। টবের মাটি শুকিয়ে এলে গাছে জল দিতে হবে। দীর্ঘ সময় প্রখর রোদে রাখলে এ গাছের পাতা শুকিয়ে যায়। আবার একেবারে ছায়া জায়গায় রেখে দিলে পাতায় বর্ণবৈচিত্র তৈরি হয় না। সারাদিন পরোক্ষ সূর্যের আলো এবং সকালে বা বিকেলে কিছুক্ষণ নরম রোদ খাওয়াতে পারলে গাছের স্বাস্থ্য সব দিক থেকেই ভালো থাকবে।

মানি প্ল্যান্ট: সাবধানতা

ঘরে মানি প্ল্যান্ট গাছ রাখলে দু একটি বিষয়ে একটু সাবধান থাকা দরকার। এই গাছের কান্ডে ও পাতায় ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকে। ভুল করে এগুলো খেয়ে ফেললে মুখে ও গলায় সামান্য জ্বলুনি হতে পারে এবং গলা সামান্য ফুলতে পারে। এই গাছের ডালপাতা খুব বেশি ঘাটাঘাটি করা ঠিক না। পোষ্য প্রাণীরা এ গাছের পাতা চিবিয়ে ফেললে তাদের দেহেও মৃদু প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই গাছটিকে বাড়ির ছোটো বাচ্চা ও পোষ্যদের নাগাল থেকে দূরে একটু বেশি উচ্চতায় রাখা ভালো।