কোভিড-১৯ এর কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ ও করণীয়- অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১৩, ২০২০

কোভিড-১৯ এর কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ ও করণীয় প্রসঙ্গে

কোভিড ১৯ এর কারণে সারা পৃথিবীর ন্যায় বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বন্ধ আছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বই কাঁধে ঝুলিয়ে স্কুল বা কলেজে যাওয়ার এখন কোনো তাড়া নেই। তারা যে যার মতো করে সময় কাটাছে। যদিও সরকার ও শিক্ষকগণ তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে (সংসদ টিভি, পত্রপত্রিকা, মোবাইল ও ইন্টারনট প্লাটফর্ম ইত্যাদি) শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওযার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তারপরও সারাদেশে এই চেষ্টার সমান অনুপাতে নানান কারণে করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো করোনা ভাইরাসের এই সংকট শেষে যখন স্কুল / কলেজগুলো স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসবে, তখন সব শিক্ষার্থীরা কী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসবে ? তাদের মধ্যে অনেকে ঝরে পড়বে না তো? আর ঝরে পড়লে- কত সংখ্যাক শিক্ষার্থী ঝরে পরতে পারে? কোন শ্রেণি শিক্ষার্থীরা এই ঝুঁকিতে বেশি আছে? কাজেই এই বিষয়টি এখনই একটি গবেষণা দাবি রাখে। সেই সাথে ঝরে পরা রোধে দ্রুত করণীয় ঠিক করতে হবে। তবে একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে কিছু চ্যালেন্স আমি দেখতে পাচ্ছি। যেমন-
এক. দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন সে স্কুল পরিবেশের বাইরে অবস্থান করছে।
দুই. নিন্মবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন সময়ে পরিবারের আয়বর্ধনমূলক কাজে জড়িয়ে গেছে। স্কুল খোলার পর পরিবার সেখান থেকে ফিরিয়ে এনে স্কুলে পাঠাতে প্রয়োজন বোধ করতে নাও পারেন।
তিন. নারী শিক্ষার্থীরা এইসময় বাল্যবিবাহের শিকার হতে পারে।
চার. বর্তমানে দীর্ঘ মেয়াদী বন্যা, নদী ভাঙ্গন এবং করোনার কারণে পারিবারিক দুর্যোগ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক দরিদ্র পরিবার জীবিকার তাগিদে এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, স্কুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে শিক্ষার্থীগুলো ঝরে যাবে।
পাঁচ. স্কুল না থাকায় শিক্ষার্থীরা অলস সময় কাটছে। ফলে অনেক কিশোর অসৎ সঙ্গ, কিশোর গ্যাং ইত্যাদি অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে।
ছয়. করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দরিদ্র পরিবারগুলো শিক্ষা খাতে খরচ কমাতে চাইবে। পরিবারগুলো সেই অর্থ ব্যয় করবে জীবন ধারণ করতে চাইবে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী আলো মুখ দেখতে পারবেনা।
কাজেই বৈশ্বিক সমস্যা কোভিড ১৯ -এর কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে – সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগগুলোকে এখনি ব্যাপক গবেষণা করে একটি সুষ্টু গাইড লাইন তৈরি করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে হবে। সবচেয়ে কঠিন কাজটিতে হাত দিতে হবে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকদেরকেই। এ-ই করোনা কালীন সময় ছাত্র ও অভিভাবকদের সাথে তাঁদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ঝরে পরা রোধে সকলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। আর তা না হলে আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণের আগে স্কুলে না যাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকার সাথে এখন এ-ই তালিকা আরো অস্বাভাবিক পরিমাণে বড় হবে।
কিন্তু প্রিয় শিক্ষার্থী কোনোভাবে তোমাদের ঝুঁকিতে পরতে দিতে পারি না। দেশ জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

লেখক: মোঃ গোলাম মোস্তফা

অধ্যক্ষ

রাজু’র বাজার কলেজিয়েট স্কুল

নেত্রকোণা।

১৩.৮.২০২০