বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে : জাতিসংঘে বাংলাদেশ নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ৩০, ২০২৪ বাংলাদেশ জাতিসংঘে (ইউএন) পুনর্ব্যক্ত করেছে যে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক বাংলাদেশির নিজ নিজ ধর্ম পালন বা স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে।জাতিসংঘ ও জেনেভায় অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ভিত্তি।আজ রাতে এখানে প্রাপ্ত এক বার্তায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসংঘের সংখ্যালঘু ফোরামের ১৭তম অধিবেশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এই বিবৃতি প্রদান করেন।তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব সংখ্যালঘু ধর্মীয় নেতাদের ধর্মের অধিকার বারবার আশ্বস্ত করেছে এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিনে বারবার প্রমাণ করেছে।ইসলাম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি যে শ্রী চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারকে কিছু বক্তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাকে আসলে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হচ্ছে।রাষ্ট্রদূত বলেন, একজন মুসলিম আইনজীবীর সাম্প্রতিক নৃশংস হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ এবং সকল ধর্মের নেতাদের সমর্থন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাহায্য করেছে।তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার সজাগ রয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করে যাবে।রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে ৫ আগস্টের পরের সহিংসতার মূলে ছিল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ, সাম্প্রদায়িক নয়। সরকারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে দুজন উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে।সহিংসতা জনগণকে প্রভাবিত করেছে বেশিরভাগ দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। তাদের প্রায় সকলেই মুসলিম এবং কেবল মুষ্টিমেয় কয়েকজন অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর। তিনি যোগ করেন যে সংখ্যালঘুদের ওপর কোন পরিককল্পিত আক্রমণ হয়নি।বরং, ইসলাম বলেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ব দেখেছে কিভাবে বাংলাদেশের গোটা সমাজ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘ ঐতিহ্য মেনে চসংখ্যালঘুদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছে।তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সকল ধর্মের মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন ম্যান্ডেট উপভোগ করছে।তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের জনগণ যখন ধর্মীয় সম্প্রীতির গৌরবময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তখন আমরা অতিরঞ্জিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট প্রতিবেদন এবং সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিষয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির ছড়াছড়ি লক্ষ্য করছি। দুঃখজনকভাবে, আমরা এই ফোরামেও এটি দেখেছি।’বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বৈশ্বিক মিডিয়া এই ধরনের অনেক প্রোপাগান্ডা নাকচ করে দিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার সরেজমিন পরিস্থিতি দেখার জন্য বিদপশি সাংবাদিকদের বাংলাদেশ সফরে স্বাগত জানাতে উন্মুখ রয়েছে।বাসস শেয়ার জাতীয়বিষয়: