টাঙ্গাইলে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকি মেহেদী হাসান চৌধুরী মেহেদী হাসান চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: 11:13 AM , November 6, 2026 টাঙ্গাইল শহরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ৩ থেকে ৪ ফুট জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে আমানত বিল্ডার্সের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. জাফর খান। এ ঘটনায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়া মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ১০৭৪ এবং দাগ নম্বর ৭৮২-এর একটি জমি নিয়ে জাফর খানের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জাফর খানের অভিযোগ, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হলে তিনি টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও দেয়াল ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট জায়গা দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী জাফর খান জানান, আমানত সাঈদ প্যালেসের কাছে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য তিনি আমানত বিল্ডার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করলে বারবার নির্মাণকাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু অগ্রগতি না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে চুক্তি বাতিলের দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন। এরই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমির অংশবিশেষ দখল করেছেন বলে দাবি তার। জাফর খানের আরও অভিযোগ, ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমানত বিল্ডার্সের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাজির খান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ওই জায়গাটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য তাদের পাওয়ার (আমমোক্তারনামা) করে দেওয়া হয়েছিল। নির্মাণকাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলাকালে জমির মালিকপক্ষ তাদের কাজ করতে নিষেধ করেন। তারা জানান, সেখানে গাড়ির শোরুম নির্মাণ করে ভাড়া দেবেন এবং আমানত বিল্ডার্সের সঙ্গে করা চুক্তি আর বহাল রাখবেন না। হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাজির খান বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এদিকে ভুক্তভোগী জাফর খান অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, দখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শেয়ার অন্যান্যবিষয়: