সংকট নেই বলার ৫ দিন পরই এলপিজির দাম বাড়ল কেন’— প্রশ্ন তাজনূভা জাবীনের

প্রকাশিত: 10:35 PM , October 6, 2026
তাজনূভা জাবীন। ছবি: সংগৃহীত

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক দফায় ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণের পর এ নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন। সেখানে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা ২৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে দেশে কোনো সংকট নেই বলে জানানোর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো।

রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এলপিজির দাম বৃদ্ধি, বাজারে কথিত কৃত্রিম সংকট এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাজনূভা জাবীন।

তিনি লিখেছেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে নির্ধারিত দাম না মেনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ওঠে।

তাজনূভা জাবীন বলেন, ‘২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ১৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রাহকরা আশঙ্কা করছেন এই সিলিন্ডার এখন ২৬০০/২৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হতে পারে।’

এলপিজি সংকট নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী এলপি গ্যাসের অপারেটরদের সাথে বৈঠক করেন, পরে মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ‘বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো ধরনের সংকট নেই’ বলে সভায় জানান এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটরগণ।

এর পরই প্রশ্ন তুলে তাজনূভা বলেন, ‘বৈঠকের ঠিক ৫ দিন পর আবার দাম বাড়ানো হল কেন, সংকট না থাকলে?’

দেশে এলপিজি আমদানির বাজার নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। তাজনূভা জাবীন লিখেছেন, ‘দেশে এলপিজি গ্যাস আমদানি হয় বেসরকারিভাবে। বিইআরসির তথ্য মতে, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া ৫২টি কোম্পানির মধ্যে মূলত ৮/৯টি কোম্পানিই এলপিজি নিয়মিত আমদানি করে থাকে। আমদানিকারক/ব্যবসায়ীরা জানতেন অক্টোবর মাসের জন্য অর্ডার কম করা হয়েছে, সরবরাহ কম থাকবে সো আগে মজুদ করা হচ্ছে এই মাসে সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য থাকবে বলে।’

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি এলপিজি অপারেটর (কোম্পানি) বড় ধরনের মুনাফা তুলে নিতে পাঁয়তারা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংস্থা দুটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানোয় শনিবার দেশের এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী।’

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তাজনূভা সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে অনলাইন মিটিং করে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন কেউ কৃত্তিম সংকট তৈরি করে যাতে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে না পারে সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে। ভালো কথা, তারপর? এটুকু করেই শেষ?’

সরকারের সমালোচনার কারণ ব্যাখ্যা করে তাজনূভা জাবীন বলেন, ‘আমি বা আমরা আসলে শুধু শুধু সরকারের সমালোচনা করার খাতিরে সমালোচনা করার জন্য এসব বলি না। গণঅভ্যুথানের পর আমরা জনস্বার্থে জড়িত প্রত্যেকটা বিষয়ে নাক গলাব। কারণ এই দুর্দশা থেকে মুক্তির জন্যই মানুষ রক্ত দিয়েছে। আমরা দেখছি আমলা আর ব্যবসায়ীদের কাছে এই দেশের জনগণ জিম্মি হয়ে ছিল, এখন আরও হচ্ছে।’

এলপিজির দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী এসব কারণকে পূজি করে কেউ জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে কিনা, কষ্টের মধ্যে ফেলছে কিনা, কেন ৫ দিন আগে সংকট নেই বলে আবার সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো, এর পরিষ্কার জবাব আমরা সরকারের কাছে চাই।

সবশেষে ঢাকার জীবনযাত্রার ব্যয় ও নাগরিক দুর্ভোগ নিয়েও মন্তব্য করেন তাজনূভা। তিনি লিখেছেন, ‘আর এই ঢাকা। কোনো এক সময় বিখ্যাত বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাডি করে রিসার্চ করা হবে কেন ঢাকা বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর আবার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর

Loading