ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ: রাহুল গান্ধী আটক, পরে মুক্তি

প্রকাশিত: 9:50 PM , October 6, 2026

ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধনের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে মঙ্গলবার ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করেছে পুলিশ।

নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, সংস্থার এক প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে রাহুল গান্ধীকে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা নাড়তে দেখেছেন। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির জ্যেষ্ঠ এই নেতাকে অন্য কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে আটক করা হলেও কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী রাজনীতিকরা অভিযোগ করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন কাজ করছে।

সমালোচকেরা আরও বলছেন, এই উদ্যোগে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিমরা, অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও অখণ্ডতা নিশ্চিত করাই এই সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য।

মঙ্গলবার বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

পরে রাহুল গান্ধী ও তার আইনপ্রণেতা বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা নির্বাচন কমিশনের পাশের সরকারি বেতারকেন্দ্রের কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন।

সরকারি বেতার ভবনের লোহার ফটকের আড়াল থেকে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভোট চুরির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি দেশকে ছিনতাই করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়। কেউই রেহাই পাবে না।’

মোদির দল এই উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু বিরোধী দল, বিশেষ করে কংগ্রেস, সরকার পরিবর্তন করে রাহুল গান্ধীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য সমন্বিতভাবে চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ করছে।’

‘হয়ে গেছে, ভাই’
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর এই প্রচারণা আবার জোরদার হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দুজন ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এই কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জ্ঞানেশ, হয়ে গেছে ভাই।’ পাশাপাশি ভোটে কারসাজির অভিযোগসংবলিত বিভিন্ন স্লোগানও লেখা ছিল।

বিরোধী নেতারা আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে বলেন, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের কারণে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
জ্ঞানেশ কুমার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, জালভাবে নিবন্ধিত ভোটার শনাক্ত করা এবং ‘বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের’ ভোট দেওয়া ঠেকাতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে মে মাসে আত্মপ্রকাশ করা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার রাজধানীতে ‘গণসংহতি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। এই আন্দোলনটি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে পদ থেকে সরানোর প্রচারণায় সফল হয়েছিল।

বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত বড় কয়েকটি ছাত্র সংগঠনও জানিয়েছে, তারা শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেবে।

ভোটার তালিকা সংশোধন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আরেকটি শুনানি হতে পারে

Loading