চিকিৎসককে বিয়ের দাবিতে চেম্বারে নারীর অবস্থান!

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৯, ২০২২

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ মডেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. রনি চন্দ্র মজুমদারকে বিয়ের দাবিতে তার চেম্বারে অবস্থান নিয়েছেন এক নারী।

পরে কোনো সুরাহা না পেয়ে বুধবার বিকালে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে ডা. রনি চন্দ্র মজুমদার ও মডেল হাসপাতালের ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত করে একটি অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবার রাতে হাজীগঞ্জ মডেল হাসপাতালে ওই নারী ডা. রনি চন্দ্র মজুমদারের খোঁজে রোগী সেজে বোরকা পড়ে তাকে চিহ্নিত করে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে কোনো সুফল না পেয়ে বুধবার বিকালে ভুক্তোভোগী ওই নারী বাদী হয়ে ডা. রনি চন্দ্র মজুমদার ও মডেল হাসপাতালের তিন থেকে চার জনকে অজ্ঞাত করে একটি অভিযোগ করেন।

ওই নারী যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার শুরু বাংলাদেশ মেট্রোমনি ম্যারেজ মিডিয়া থেকে। ওই নারী পাত্র চাই লিখে সিভি দিই। সেখান থেকে পরিচয়। এর পর ১৮ নভেম্বর দেখা করেন খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক হোটেলে। ডা. রনি চন্দ্র মজুমদার আমাকে বিয়ে করবেন বলে ওই রাতে হোটেলে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন।

সেখান থেকে এসে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।

কিন্তু কয়েক দিন পর মন পরিবর্তন করেন ডা. রনি। পরে আমার সঙ্গে কথা বলতে ও দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় ডা. রনি চন্দ্র মজুমদারের খোঁজে মঙ্গলবার রাত ১১টায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ মডেল হাসপাতালে আসি।

হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগে বলা হয়, ডা. রনির খোঁজে হাজীগঞ্জ মডেল হাসপাতালে এলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ৩০০ টাকা মূল্যের অলিখিত একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং তার সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা, ১০ আনা ওজনের একটি গলার চেইন, ছয়আনা ওজনের কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে চেম্বার থেকে বের করে দেয়।

ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, চেম্বার থেকে বের করে দিলে তিনি কয়েকটি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অভিযোগে উল্লিখিত অজ্ঞাত ৩-৪ জন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায়। মধ্যরাতে জ্ঞান ফিরলে দুজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া আবাসিক হোটেলে রাখে। পরে বুধবার চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। আর ডা. রনিকে পাওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে অভিযোগ হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।