আশুলিয়ায় অপরিচিত যুবককে বাঁচাতে গিয়ে খুন হল ফার্ণিচার দোকানের কর্মচারী

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ , জুলাই ৫, ২০২২

আশুলিয়ায় মেহেদী নামে এক অপরিচিত যুবককে বাচাঁতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হামলায় লিখন (১৮) নামের এক ফার্ণিচার দোকানের কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পলাশবাড়ির গোছরারটেক এলাকার ইস্টার্ন হাউজিং মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত লিখন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার ভয়নগর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে ফার্ণিচারের দোকানে কাজ করতো বলে জানা গেছে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের ইনচার্জ ইউসুফ আলী বলেন, সোমবার রাত ১০ টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে পলাশবাড়ীর গোছরারটেক ইস্টার্ন হাউজিং মাঠে মেহেদী নামের এক যুবককে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মারধর করছিলো। এসময় ওই মাঠে বসে মোবাইল ব্যবহার করছিলো ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী লিখন। অপরিচিত হলেও মেহেদীকে বাঁচাতে এগিয়ে যান লিখন। তখন মেহেদীর সঙ্গে লিখনকেও উপর্যুপরী কিল ঘুষি মারেন ওই দুর্বৃত্তরা। এক পর্যায়ে লিখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মারধরে মুখ থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে লিখনের। অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। লিখনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় আহত মেহেদী ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
নিহতের স্বজন শহিদ আলী বলেন, লিখন আমার শ্যালকের ছেলে। সে পলাশবাড়ীর একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতো। সোমবার সন্ধ্যায় পলাশবাড়ী এলাকায় কে বা কারা তার ওপর হামলা চালায়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। আমি খবর পেয়ে গ্রাম থেকে এসেছি। এ ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফ মফিজুর রহমান বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার শরীরের কোথাও কোন মারধরের চিহ্ন নেই। তবে ইন্টারনাল ইনজুরি থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।