২১ বছরেও বিচার হয়নি নারায়ণগঞ্জ আ’লীগ অফিসে বোমা হামলার

প্রকাশিত: ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ , জুন ১৬, ২০২২

নারায়ণগঞ্জের জন্য ভয়াল ১৬ জুন। ২০০১ সালের এই দিনে চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলায় প্রাণ হারায় ২০ জন। ঘটনার দীর্ঘ ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারকার্য্য চলছে ধীর গতিতে।

নিহতদের পরিবারের দাবি তারা বেঁচে থাকতে এই ঘটনার দোষীদের বিচার দেখে যেতে চান।

২০০১ সালের ১৬ জুন রাত পৌনে ৯টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বর্বরোচিত এ বোমা হামলা চালানো হয়। সেদিনের নৃশংস বোমা হামলার ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং তৎকালিন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ আহত হন অর্ধশত। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

নিহতরা হলেন, তৎকালীন শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল হাসান বাপ্পী, সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের সাবেক জিএস আকতার হোসেন ও তার ভাই সঙ্গীত শিল্পী মোশাররফ হোসেন মশু, সঙ্গীত শিল্পী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাসানী, নারায়ণগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ মোল্লা, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পলি বেগম, ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন দাস, কবি শওকত হোসেন মোক্তার, পান সিগারেট বিক্রেতা হালিমা বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড মেম্বার রাজিয়া বেগম, যুবলীগ কর্মী নিধু রাম বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার, আবু হানিফ, এনায়েতউল্লাহ স্বপন, আব্দুল আলীম, শুক্কুর আলী, স্বপন রায় ও অজ্ঞাত এক মহিলা।

চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলার সভাপতি চন্দন শীল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতন দাস আরো অনেকেই।

চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে এ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। দুটি মামলায় ১৪ বছরে ৭ বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে ২০১৩ সালের ২ মে মামলার তদন্ত সংস্থা ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বর্তমানে আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। অভিযুক্তদের মধ্যে মুফতি হান্নানকে ২০১৭ সালে অন্য একটি মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়। মামলার অপর ২ আসামি জমজ সহোদর আনিসুল মোরছালিন ও মুহিবুল মোত্তাকিন ভারতের কারাগারে আটক রয়েছেন।

বোমা হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও ২১ বছরেও সেটির সুফল পায়নি তারা। এ নিয়ে হতাশ আহত-নিহতদের স্বজনরা।

বোমা হামলার ঘটনার আহত নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ভারতের কারাগারে আটক এ ঘটনার মূল দুই আসামিকে দেশে এনে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন মামলার বাদী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চান তিনি।

এ মামলায় এ পর্যন্ত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। যারা সাক্ষ্য দেননি তাদের বিরুদ্ধে আদালত সমন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সকল সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান বুলবুল।