পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে বানভাসী মানুষ

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ , জুলাই ২৩, ২০২০

টিটুল মোল্লা

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানির তোড়ে সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে পরিবহন ব্যবস্থা। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

শরীয়তপুরে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ৪টি পৌরসভাসহ সদর, নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা এখন পানির নীচে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখেরও বেশি মানুষ। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট।

ভুক্তভোগীরা জানান, ঘরের ভিতরে পাটি ঢুকে গছে, গাছ পালা ভেঙ্গে পড়ছে, গৃহপালিত পশু নিয়ে দুর্ভোগে আছেন তারা, সংসারের লোকজনের খাবার পরশুর খাবার ও তারা জোগাড় করতে পারছেন না, রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ার শুধু উপজেলার সাথে না যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে হাটবাজারের সাথেও।

বানভাসী ২২ হাজার পরিবারের মধ্যে ১০০ টন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

সুনামগঞ্জে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ জেলার সবকটি নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যায় জেলার ১১টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি।

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কমলেও বেড়েছে ধরলার পানি। প্লাবিত হয়েছে সদর, আদিতমারীর দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে। বাড়ি-ঘর ছেড়ে উচু রাস্তা ও বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে মানুষ।

বাঁধের উপর আশ্রয় নেওয়া বানভাসী মানুষ জানান, বন্যার কারণে আয় নেই কিন্তু নৌকা ভাড়া ঠিকই দিতে হচ্ছে।

টাঙ্গাইলে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি কমলেও ঝিনাই নদীর পানি বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত। বাসাইলের ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। সড়ক ও সেতু ধ্বসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যায় তলিয়ে গেছে বাড়ি-ঘর ও আবাদী ফসল।

এদিকে গাজীপুরে তুরাগ ও বংশী নদীর পানি বেড়ে কালিয়াকৈর এর সুত্রাপুর ও ঢালজোড়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। এসব স্থানের নিচু রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে পানিতে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।