হরতাল-অবরোধে বেনাপোলে পণ্য জট

প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ২৪, ২০২৩

একের পর এক হরতাল-অবরোধের কারণে বেনাপোল বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনে ট্রাক সংকটের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু ট্রাক মিললেও ভাড়া বেড়েছে ট্রাক প্রতি ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে স্বাভাবিক পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশের শিল্প কলকারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ট্রাক স্বল্পতার সুযোগে এক শ্রেণির ট্রাক চালকরা পণ্য পরিবহনের ভাড়া আগের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কাঁচামালে।

শিল্প প্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসাসহ অন্যান্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার উপরে বলে তারা জানিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেওয়ায় আতংক বিরাজ করছে ট্রাক চালক ও মালিকদের মাঝে। এতে বেনাপোল কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়েছেন। তবে ভারত থেকে আমদানি-রফতানিসহ খালাস প্রক্রিয়া রয়েছে স্বাভাবিক ভাবে।

হরতাল-অবরোধের কারণে ট্রাক সংকটে বন্দর থেকে পণ্য খালাস না হওয়ায় বন্দরে পণ্যজটের পাশাপাশি ভারত থেকে আসা ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড করা যাচ্ছে না।

ভারতীয় পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসা ট্রাকচালক দেবাশিষ পাল বলেন, ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে তিনদিন ধরে বন্দরে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলাদেশি ট্রাক সংকটে পণ্য আনলোড হচ্ছে না। এতে আমদানি পণ্যের জট বেড়েছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক চালক যতীন শর্মা জানান, ৫ দিন ধরে তিনি পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু খালাস করতে না পারায় বেনাপোল বন্দরে আটকে রয়েছেন। এখন ট্রাকেই সংসার পেতে বসেছেন। সেখানেই চলছে রান্না খাওয়া।

বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে রেল ও সড়ক পথে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি-রফতানি হয় ভারত থেকে। এসব পণ্যের মধ্যে বড় একটি অংশ শিল্পকলকারখানা স্থাপনের যন্ত্রাংশ, রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কাঁচামাল, কেমিকেল, অক্সিজেন ও খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্য। একের পর এক হরতাল-অবরোধে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বন্দরটিতে। ভারত থেকে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও, নাশকতার ভয়ে ট্রাক মালিক ও ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির অনেকে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন করতে চাচ্ছেন না। এতে পণ্য পরিবহনে ট্রাক সংকটের মুখে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। হরতালের কারনে রাতে বেলায় ট্রাক বেশি চলাচল করলেও তারা আতংকের মধ্যে থাকে। ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার ট্রাক এখানে আসতেও ভয় পাচ্ছে। তখন না জানি আগুন ধরিয়ে দেয় ট্রাকে।

স্থানীয় আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা জানান, আগে বেনাপোল থেকে ঢাকা ট্রাক ভাড়া ছিল ২২/২৩ হাজার টাকা এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৭/২৮ হাজার টাকায়। আর বেনাপোল থেকে চট্রগ্রাম পর্যন্ত ভাড়া ৮ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ায় সরবরাহ যেমন কমেছে, তেমনি সময়মতো কাঁচামাল না পৌঁছানোয় শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হরতাল অবরোধের নামে নাশকতামূলক কর্মকন্ড এড়িয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী জানান, ভারত থেকে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক আছে। বেনাপোল বন্দরে কোনো অবরোধ, হরতাল নেই। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক ঘটনায় চাহিদামতো ট্রাক বন্দরে আসছে না। এতে পণ্য খালাসের পরিমাণ কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে বন্দর থেকে প্রায় ৪৫০ ট্রাক পণ্য খালাস হলেও, ট্রাক সংকটে এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ ট্রাকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতিতে পড়বে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ জানান, কাস্টমস ও বন্দরের কাজে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে হরতালের কারণে বন্দরে ট্রাক সংকটে জরুরি আমদানি পণ্য গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিল্প-কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। হরতাল ও অবরোধ এড়িয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।

Loading