অবিক্রীত গরু

মাথায় ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ , জুলাই ২১, ২০২০

অজ্ঞাত রোগে গত বছর তিনটি গরু মারা যায়। এ কারণে লোকসান হয় প্রায় ছয় লাখ টাকা। আশা ছিল এবার সেই লোকসান কাটিয়ে ওঠার। কিন্তু মহামারি করোনা সেই স্বপ্ন-আশা পূরণ হতে দিল না। খামারে বিক্রির উপযোগী গরু রয়েছে ১৭টি। কিন্তু ক্রেতা নেই। তা ছাড়া মাথার ওপর ১৪ লাখ টাকার ঋণের বোঝা। কোরবানিরও বাকি আছে মাত্র কয়েক দিন। এ বছরও যদি সময়মতো গরু বিক্রি করতে না পারেন তাহলে পথে বসতে হবে। একদিকে ব্যাংকের ঋণ, অন্যদিকে খামারের গরু বিক্রি না হওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা গ্রামের নিয়মিত গরুর খামারি মো. নাসির উদ্দিন খান। তাঁর মতো উপজেলার ২৫টি খামারের মালিকরাও তাঁদের গরু নিয়ে রয়েছেন হতাশায়।

নাসির খান জানান, তিনি ১৪-১৫ বছর ধরে গরুর খামার করছেন। অন্যান্য বছর কোরবানির জন্য ৩৫ থকে ৪০টি গরু থাকে তার খামারে। কিন্তু করোনার কারণে এবার গরু কিনতে পারেননি। করোনার আগে মাত্র ১৭টি গরু কিনেছিলেন। একেকটি গরু কিনতে হয়েছে ৬০-৭০ হাজার টাকা করে। পাশাপাশি ডেইরি ফার্মও রয়েছে তাঁর। সেখানে রয়েছে উন্নত জাতের ছয়টি দুধের গাভি।

তিনি আরো জানান, আরো ব্যাপক আকারে খামার করার আশায় এবার ব্যাংক থেকে ১৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। পরে আর গরু কেনা হয়নি। বর্তমানে তাঁর খামারের একটি গরু কোরবানির উপযোগী করে তুলতে কেনাসহ প্রায় এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। যা কোরবানির হাটে দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা ছিল তাঁর। কিন্তু স্থানীয় ক্রেতারা সেই গরুর দাম বলছেন মাত্র ৬০-৭০ হাজারা টাকা।

লাকুড়তলা গ্রামের খামারি লোকমান হোসেন জানান, তিনি পাঁচ-ছয় বছর ধরে ডেইরি ফার্মের পাশাপাশি কোরবানির গরুও লালন-পালন করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল এবার কম করে হলেও ২০টি গরু কেনার। কিন্তু করোনার কারণে তা আর কেনা হয়নি। বর্তমানে তাঁর খামারে সাতটি কোরবানির গরু রয়েছে। এগুলো বিক্রি করার বেপারি পাচ্ছেন না এখন। গরু বিক্রি করতে না পারলে তাঁর প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসান হবে।

খোন্তাকাটা ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের শহিদুল আকন জানান, প্রতিবছর কোরবানির এক-দেড় মাস আগে সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০-৫০টি গরু কিনে নিজের বাড়িতে লালন-পালন করতেন। করোনার কারণে এবার কোনো গরু কেনেনি। উত্তর কদমতলা গ্রামের খামারি মো. আসলাম ফকির তিনিও এবার গরু তোলেননি তার খামারে। এছাড়া ধানসাগর ইউনিয়নের বাধাল গ্রামের আলামিন হোসেন, সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ী গ্রামের সুমন হাওলাদার, তৈয়েবুর রহমান, হারুন অর রশিদ- তাঁদের খামারে মাত্র পাঁচ-ছয়টি করে গরু তুলে এখন তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। লোকসানের মুখে পড়া এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা গরুর ফার্মের জন্য সহজ শর্তে ঋণের পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার হোসেন জানান, শরণখোলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫টির মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি গরুর খামার রয়েছে। যাঁরা নিয়মিত উন্নত জাতের দুধের গাভি ও কোরবানি উপলক্ষে মোটাতাজাকরণ পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করেন। প্রতিটি খামারে কোরবানির উপযোগী গরু রয়েছে। এবার করোনার প্রভাবে ক্রেতা কম থাকায় এসব খামারি লোকসানে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা যাতে সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন, সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হবে।