চট্টগ্রামে পুলিশের অভিযানে যুবকের মৃত্যু স্থানীয়দের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ১৭, ২০২০

নগরীতে পুলিশের অভিযানের মধ্যে সন্দেহভাজন এক মাদক বিক্রেতা তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। উত্তেজিত লোকজন ভাঙচুরও করে। তাদের অভিযোগ পুলিশের হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার বাদামতলীর বড় মসজিদ গলিতে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বড় মসজিদ গলির একটি বাসা থেকে মো. মারুফ (১৯) নামে ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, মারুফের বাসার পাশে সন্ধ্যায় এক যুবককে চোর সন্দেহে লোকজন মারধর করে। এসময় সে নিজেকে ডবলমুরিং থানার সোর্স দাবি করে। এ ঘটনার পর ডবলমুরিং থানার এএসআই হেলালের নেতৃত্বে একটি টিম সন্দেহভাজন ইয়াবা বিক্রেতা হিসেবে মারুফকে আটক করতে যায়।
এ সময় মারুফকে ধরে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি মারে ওই পুলিশ সদস্য। একপর্যায়ে সে পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে মারুফের মা-বোনসহ প্রতিবেশীরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশকে বাধা দেয়। ততক্ষণে মারুফ গা ঢাকা দেয়। তখন তার মা ও বোনকে পুলিশ গাড়িতে তুলে নেয়। পুলিশের দাবি তারা অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ সোর্সকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ ওই যুবককে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে তুলে নিতে আসে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক বলেন, সন্ধিগ্ধ মাদক বিক্রেতার মা ও বোন অজ্ঞান হওয়ার অভিনয় করেন। তারপরও তাদের পুলিশ তাদের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যে ওই যুবক বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধারে গেলে এলাকার লোকজনের বিক্ষোভের মুখে পড়ে। এসময় কয়েকশ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। উত্তেজিত জনতা ভাঙচুরও করে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। অবশ্য পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

মারুফের বোনের দাবি, তার ভাইকে এএসআই হেলাল মারধর করেছে। এছাড়া তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেছে।