১৫ বছর ধরে এমবিবিএস চিকিৎসক সেজে প্রতারণা!

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ , জুলাই ১৬, ২০২০

১৫ বছর ধরে এমবিবিএস চিকিৎসক সেজে প্রতারণা করছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার খাগড়াকুড়ি গ্রামের প্রমোদ চক্রবর্তী। প্রতারণার স্বীকার এক ব্যক্তির করা আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত ও শুনানীশেষে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ওই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, প্রমোদ চক্রবর্তী নিজেকে ডা. প্রমোদ চক্রবর্তী, এমবিবিএস ( ঢাকা), পিজিটি (সার্জারি), মেডিকেল অফিসার, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। মা ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ ইত্যাদি হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং এসব তিনি ভিজিটিং কার্ড ও ব্যবস্থাপত্রে লিখতেন ও দালাল মারফত রোগীদের আকৃষ্ট করতেন।

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিংগাইর উপজেলার বাস্তা ও সাহরাইল এলাকায় ফার্মেসীতে, ঢাকার সাভার আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত স্থানভেদে তিনশ থেকে এক হাজার টাকা ভিজিট নিয়ে রোগী দেখতেন, করতেন অপারেশনও।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রমোদ চক্রবর্তীর কাছে চিকিৎসা নেয়া ও প্রতারণার শিকার রানা হোসেন নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে।

তদন্ত ও শুনানিকালে তিনি ব্যবস্থাপত্রে ও ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহৃত পদবীর স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখতে পারেননি অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রমোদ চক্রবর্তী। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার খাগড়াকুড়ি এলাকায়। এসএসসি কিংবা এইচএসসি পাশের কাগজপত্রও তিনি দেখাতে পারেননি।

তার একটি ফার্মেসী ছিলো বলে জানান তিনি। গত ১৫ বছর ধরে তিনি এই প্রতারণা করে আসছিলেন বলে জানান আসাদুজ্জামান রুমেল।

অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার দায় স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে তিনি আর এই ধরনের প্রতারণা করবেন না মর্মে মুচলেকা প্রদান করায় তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৪ ধারায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান ভোক্তা অধিকারের ওই কর্মকর্তা।

প্রতারকদের ব্যাপারে জনসাধারণকে আরও সতর্ক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস। সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকারের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির শাস্তি বা জরিমানার পাশাপাশি অভিযোগকারীরা পাবেন জরিমানার ২৫% টাকা।