পাইকগাছা-কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থায় হতে যাচ্ছে ব্যাপক উন্নয়ন

মিলন দাশ মিলন দাশ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩

পাইকগাছা-কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরো কয়েকটি সেতু। বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæত সেতুসহ দুই উপজেলার কয়েকটি সেতু। স্থানীয়রা বলছেন, প্রস্তাবিত সেতুগুলো নির্মিত হলে বৃহত্তর এ অঞ্চলের উৎপাদিত হিমায়িত চিংড়ি, মৎস্য ও কৃষি ফসল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব সহজেই সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে এলাকার মানুষের আর্তসামাজিক উন্নয়ন সহ অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে সুন্দরবন সংলগ্ন এ জনপদে, এছাড়া অপার সম্ভাবনা তৈরী হবে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পেরও। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যেরও উন্নয়ন হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। সম্প্রতি সেতু বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। যার মধ্যে উপজেলার গড়ইখালী ও সোলাদানা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বেতবুনিয়া-গড়ইখালীস্থ মিনহাজ নদীর উপর প্রস্তাবিত ব্রিজ নির্মাণ এলাকা। এরপর কর্মকর্তারা সোলাদানা, লতা ও দেলুটী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরআগে কর্মকর্তারা লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট সংলগ্ন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রস্তাবিত ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম-সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক মোঃ ভিকারুদ্দৌলা চৌধুরী, সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্লান প্রণয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ লিয়াকত আলী, অতিরিক্ত পরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মোঃ কুতুব আল হোসাইন, স্প্যানিশ ব্রিজ প্রকৌশলী মালভাডোর আরিজা ভিক্টোরিয়া, উপজেলা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান খান, উল্লেখ্য, অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দুটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত ছিল। বিগত কয়েক বছরে পাল্টে গেছে নির্বাচনী এলাকা পাইকগাছা কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যপট। ইতোমধ্যে সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রধান সড়ক উন্নয়ন করায় উন্নত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া দুই উপজেলার অভ্যন্তরিণ সড়ক কার্পেটিং ও পাকাকরণ করায় পাল্টে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যপট। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে সাথে দুই উপজেলার নদ-নদীর উপর সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে গোটা নির্বাচনী এলাকা যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষে নেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা। ইতোমধ্যে শিববাটী, শিবসা, চাঁদআলী, হাড়িয়াসহ কয়েকটি নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। লস্কর-বাইনতলা-কড়–লিয়া নদীর উপর ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে আরো একটি সেতু। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে কয়েকটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব এনেছেন সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু। প্রস্তাবনা অনুযায়ী কয়রার গিলাবাড়ীতে কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মাণ করা হবে একটি সেতু। দশালিয়ায় কয়রা নদীর উপর নির্মাণ করা হবে আরো একটি সেতু। এছাড়া বেশ কয়েক বছর আগে খুলনার এক জনসভায় পাইকগাছাতে একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেটি নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পের আওতায় সোলাদানা, লতা এবং দেলুটী ইউনিয়নের ৩টি নদীর উপর নির্মাণ করা হতে পারে ৩টি সেতু। এসব সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে একদিকে যেমন দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে। জেলা শহর খুলনার সাথে সহজ হবে যাতায়াত। এ সব উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রæত বাস্তবায়ন হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। এ বিষয়ে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে আমি সব সময় সচেষ্ট। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আ’লীগ সরকার কাজ করে চলেছে। প্রস্তাবিত এবং টেন্ডারকৃত এসব সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে গোটা নির্বাচনী এলাকা যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে বলে আমি মনি করি।

 

Loading