শেষ বয়সে এসে নিঃসঙ্গ স্কুল শিক্ষিকা উর্মিলা ভট্টচার্য্য

এস.এম.এ জুয়েল এস.এম.এ জুয়েল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ২৪, ২০২৩

বিপাকে পটিয়া হাসপাতাল কতৃপক্ষ, সহায়তায় গাউছিয়া কমিটি পটিয়া উপজেলা শাখা

চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসময়ের নামকরা স্কুলের ছিলেন শিক্ষিকা উর্মিলা ভট্টচার্য্য (৭০) ভাড়া বাসা নিয়ে থাকতেন চট্টগ্রাম শহরে । ভালোই চলছিল তার জীবন । নিয়ম অনুযায়ী ২০১৪ সালে অবসরে গেছেন তিনি। অবসরকালে পেয়েছেন পেনশনের এককালীন প্রায় ৩০ লাখ টাকা। শিক্ষিকা উর্মিলা বিয়ে না করায় তার স্বামী সন্তান কেউ ছিল না।
তাই পেনশনের সব টাকাই ভাই-বোনদের হাতে তুলে দেন। তার আশা ছিল ভাই, বোন, ভাতিজারা তার শেষ বয়সে পাশে থাকবেন। তার যখন টাকা ছিল সব ঠিক ছিল কিন্তু টাকা দেওয়ার পর সবাই যেন অচেনা হয়ে য়ায়।
শিক্ষিকা উর্মিলা ভট্টচার্য্য গত এক মাস ধরে নিঃসঙ্গ ভাবে পটিয়া হাসপাতালের বেডে পরে রয়েছেন। উর্মিলা ভট্টচার্য্য পেট ব্যাথার সমস্যা নিয়ে গত ২ জানুয়ারি ভর্তি হন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শারিরীক অবস্থার উন্নতি হলে ১৫ জানুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও কিন্তু হাসপাতাল ছেড়ে যাননি তিনি।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা জেরিন বলেন ভর্তির পর থেকে রোগীর কোন স্বজন হাসপাতালে আসেননি। আমরা সরকারী সকল ওষুধসহ চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। ছাড়পত্র দেওয়ার পরও তিনি হাসপাতালের বেড ছাড়েননি।
একদিকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা অপরদিকে নিঃসঙ্গতায় তার শারিরীক
অবস্থা আরো অবনতির দিকে । স্বজনরা কেউ দেখা না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পটিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। বেড ছেড়ে কোথাও নিজে যেতে পারছেন না। রোগীর আপন ভাই অমর কৃষ্ণ এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করল তিনি বলেন আমি এখন ঢাকায় আছি আমার কিছুই করার নেই।
এর পর আমরা গাউছিয়া কমিটিকে খবর দিই। বর্তমানে নার্সদের পাশাপাশি গাউসিয়া কমিটির সদস্যরাও ওই রোগীর সেবা যত্ন করছেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স শাহিদা পারভীন জানান, এ রোগী কিছুদিন ধরে হাটা চলা করতে পারছেন না। বেডের মধ্যেই পায়খানা-প্রশ্রাব করছেন। যার কারনে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধে পাশের বেডের রোগীদেরও সমস্যা হচ্ছে।
পটিয়া উপজেলা শাখা গাউছিয়া কমিটি মানবিক টিমের সচিব মাওলানা মো. ইছাহাক ও সদস্য মো. মাসুদ রানা জানান, হাসপাতালের ডা. ফারহানা জেরিন গত ১৭ জানুয়ারি আমাদেরকে খবর দিলে ওই দিন থেকেই আমরা এসে ওই রোগীকে সেবা দিচ্ছি। তবে তিনি একজন মহিলা। তাছাড়া তিনি বেডের মধ্যেই পায়খানা-প্রশ্রাব করছেন। যার কারনে আমাদের সেবা দিতে নানামূখী সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। জীবনের শেষ সময়টুকুতে তার স্বজনদের কেউই পাশে নেই। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

উর্মিলা ভট্টচার্য্য জানান, তিনি আগ্রাবাদ শিশু নিকেতনে শিক্ষকতা করতেন। অবসরকালীন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা এককালীন পেনশন পেয়েছেন। যা তার ভাই বোনদের দিয়েছেন। ওই টাকায় তারা পুকুর করেছেন জমি কিনেছেন।
হাসপাতালের ভর্তি সংক্রান্ত নথিতে উর্মিলা ভট্টচার্য্যরে ঠিকানা জানা যায়, পটিয়া উপজেলার ছনহরা মটপাড়া এলাকার বিশ্বেসর ভট্টচার্য্যের মেয়ে উর্মিলা।
নথিতে উল্লেখ রোগীর বোন পুতুল ভট্টচার্য্যরে ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা ৯ বোন ২ ভাই। তার ছোট ভাই অমরকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য দেশের বাড়ীতে থাকেন। অন্য ভাই রবীন্দ্র ভট্টাচার্য্য পরিবার-পরিজন নিয়ে ভারতে রয়েছেন। বোনেরা সবাই স্বামীর-সংসারে রয়েছে এর মধ্যে উর্মিলা বিয়ে করেননি। যে যার পরিবার নিয়ে নিজেরা ব্যাস্ত।
এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ২ জানুয়ারী থেকে ঊর্মিলা ভট্টাচার্য্যকে সরকারি ভাবে খাবার, ঔষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের কেউ তার সাথে যোগাযোগ না করায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি। তার এই সময় আপনজনের খুব বেশি প্রয়োজন রয়েছে।