পাহাড়ে সুগন্ধি ধানের ফলন

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ১৮, ২০২২

এস. কে. সাত্তার,ঝিনাইগাতী ( শেরপুর ) থেকে:

সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষকেরা সুগন্ধি তুলসীমালা ও চিনিগুঁড়া ধান চাষে লাভের মুখ দেখছেন। সুগন্ধি ধান বাজারে উঠতেও শুরু করেছে। উৎপাদন খরচ বেশী হলেও ভালো ফলন ও বাজারমূল্যে কৃষকরা বেজায় খুশি।

কৃষক ও ধান ব্যবসায়ীরা জানান, শেরপুর জেলার তুলসীমালা ও চিনিগুঁিড় চাল দেশজুড়ে বিখ্যাত। তুলসীমালা ও চিনিগুঁিড় চাল সুগন্ধি, চিকন ও সুস্বাদু। এ চালে পোলাও, বিরিয়ানি, পায়েস, খিচুড়ি, পিঠাসহ অন্যান্য খাবার তৈরির জন্য অতিউত্তম।

জেলার খামার বাড়ীর অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) হুমায়ুণ কবির জানান শেরপর জেলা অনেক আগে থেকেই সুগন্ধি ধান/ চালের জন্য বিখ্যাত। জেলা এবং গারো পাহাড়ে আবাদও হয় প্রচুর। এবার ভাল বাজারমূল্য পেয়ে কৃষকরা খুবই খুশি। জেলা এবং উপজেলা পর্য্যায়ে বিভিন্ন গ্রামে আবাদ ও হয়েছে প্রচুর। এ ছাড়া শেরপুর জেলায় সুগন্ধি ধানের আবাদ বরাবরই বেশি হয়ে থাকে। এ মৌসুমে পোকাড় আক্রমণ না থাকায় ও অনুকুল আবহাওয়ায় অল্প খরচেই কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছে, বাজারমূল্য ও ভালো। ফলন একরে চাষ ও (কাটা-মাড়াইসহ) খরচ পড়েছে ১৫- ২০ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে একরে ৩৫ থেকে ৪০ মণ। সে হিসাবে কৃষকের লাভ থাকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। শ্রীবরদীর আব্দুর রহিম দুলাল বলেন, ভাল বাজারমূল্যে কৃকরা খুশি।

ঝিনাইগাতীর শতবর্ষী কৃষক ডা. আব্দুল বারী, আলহাজ,রেজায়ুর রহমান মাস্টার, আলহাজ.শরীফ উদ্দিন সরাকার, সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল, নালিতাবাড়ীর কলসপাড় গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, তারা ২-১ একরে তুলসীমালা ধান আবাদ করেন। ধান রুপন থেকে কাটা পর্যন্ত একর প্রতি খরচ হয়েছে ১৭-১৮ হাজার টাকা। একরে ধান পেয়েছেন ৪০-৪২ মণ করে। প্রতি মণ ধান বিক্রি করেছেন ২ হাজার ২০০ টাকায়। তারা বলেন, এ ধানের চাহিদা অনেক বেশি। দামও ভালো পাচ্ছেন। এতে তারা খুশি। মরিচপুরান গ্রামের আফসার উদ্দিন বলেন, বাজারে সুগন্ধি ধানের দাম ভালো আমারা কৃষকরা বেজায় খুশি।

নালিতাবাড়ী বাজারের সুগন্ধি ধানের আড়তদার মেসার্স খালেদা এন্টারপ্রাইজ মালিক আবদুল বাতেন বলেন,১৫-২০ দিন ধরে তুলসীমালা ও চিনিগুঁড়ি ধান বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তুলসীমালা ২ হাজার ২০০ ও চিনিগুঁিড় ১ হাজার ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। সুগন্ধি ধানের ব্যাপক চাহিদায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ বলেন, এখানকার সুগন্ধি ধান তুলসীমালা ও চিনিগুঁিড় চালের দেশজুড়ে সুখ্যাতি রয়েছে। তাই কৃষকরাও ভাল দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন।