পার্বতীপুরে জুলফিকার চা বাগান করে অভাবনীয় সাফল্যে

মনজুরুল হক মঞ্জু মনজুরুল হক মঞ্জু

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ , জুলাই ৫, ২০২২

পার্বতীপুরে জুলফিকার চা বাগান করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। পার্বতীপুরের মার্টি বেশ উর্বর ও নানা বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। বিশে^ এমন কোন ফল-ফসল নেই, যা এখানে ফলে না। তারই একটি উদাহরণ পার্বতীপুরের দেড় বছর বয়সী এক চা বাগান। পার্বতীপুরের মানুষ কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি এই মাটিতে চায়ের চাষ হতে পারে। তবে এ অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন এক তরুন উদ্যোক্তা জুলফিকার হক জুয়েল (৪০) পেশায় একজন ব্যাংকার হলেও তারই নিরলস চেষ্টা ও পরিশ্রমে পার্বতীপুর উপজেলার নির্ভূত পল্লী বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের বাঘাচোড়া মৌজার হরতকিতলা গ্রামের ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ২ একর জমি ২০ বছরের জন্য লীজ নিয়ে তার উপর তিনি গড়ে তোলেন ছোট আকারের একটি চা বাগান। সবাই জানতো ছোট ছোট পাহাড়ও ঢিলা সমন্বিত সিলেট, মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রাম ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোথাও চায়ের বাগান করা সম্ভব নয়। কিন্তু সর্বপ্রথম এ সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করে পাহাড় বেষ্টিত দার্জিলিংয়ের পাশর্^বর্তী পঞ্চগড়ের মানুষ সমতল ভূমিতে চা-বাগান করে দেশের মানুষকে তাক লাগিয়ে দেয়। এর প্রভাবে বর্তমানে চা চাষ পাশের জেলা নীলফামারী ও লালমনিরহাটেও সম্প্রসারিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় বাগান থেকে চা পাতা সংগ্রহ করছেন শ্রমিকরা। এ সময় কথা হয় জুলফিকার হকের সাথে। তার ব্যাংকার থেকে চা বাগান মালিক হওয়ার গল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ২০১৮ সালে পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জে ন্যাশনাল ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে যোগদান করেন। সে সময় চা বাগান মালিক ও চা শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট সর্ম্পক গড়ে উঠে। তাদের উৎসাহ ও পরামর্শে চা বাগানের মালিক হক জুলফিকার হক জুয়েল। তার দেড় বছর বয়সী চা বাগান থেকে এ পর্যন্ত তিনি তিনবার চা পাতা আহরণ করেছেন প্রথম বার পেয়েছেন ৮শ কেজি চা পাতা পরের বার ১১ শ কেজি এবং ৩ জুলাই ১৫ শ কেজি (দেড় টন) চা পাতা আহরণ করেন। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রী ধারী উচ্চ শিক্ষিত এই তরুন উদ্যোক্তা জানান, চা চাষের তার অভিজ্ঞতা স্বল্প সময়ের হলেও ইতিমধ্যে চা চাষের অনেক খুটিনাটি বিষয় তিনি রপ্ত করেছেন। বাংলাদেশের সাধারণত বিডি-২ ও ২৩জাতের চা সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে চাষ করা হয়। তবে এ চায়ের মান ভাল হলেও ৬০ দিনের মাথায় এর উৎপাদনশীলতা সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও নীলফামারী অঞ্চলে চা ২৫-২৬ জাতের চাষ করা হয়। এ চাষের মান উন্নত না হলে ৪৫ দিনের আহরণ উপযোগি হয়ে উঠে। শুরুতে তিনি পঞ্চগড় থেকে চায়ের চারা সংগ্রহ করেন। এতে দুই একর জমি লীজ চারা বীজ ক্রয় সার পরিবহন, শ্রমিক মজুরীসহ তার ব্যয় হয় ৭ লাখ টাকা। তিনি বলেন, একবার বীজ রোপন করলে ১০০ বছর পর্যন্ত চা আহরন করা যায়। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে প্রতি কেজি চা পাতা ১৫-১৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রতি কেজি চায়ের মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হলে সব মিলিয়ে চা চাষ লাভজনক হতে পারতো। তার বাগানের উৎপাদিত কাঁচা চা পাতা তিনি পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জের পপুলার চা কারখানায় বিক্রি করছেন। চা বাগান সম্প্রসারনের লক্ষ্যে তিনি আরও জমি খুজছেন। ইতিমধ্যে আরও ১ একর জমি বন্দোবস্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও জমি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পার্বতীপুরে চা চাষের উপযোগী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি রয়েছে। তিনি তার চা বাগানের আয়ন আরও বাড়ানে চান। ইতি মধ্যে তার চা বাগানে ব্যবসায় শরিক হয়েছেন তার সহকর্মী ব্যাংকার সোহাগ সরকার, ব্যবসায়ীক বন্ধু রাজিব হোসেন ও পরামর্শক ময়েজ উদ্দীন। তারা জানান চা বাগানের ব্যবসা ব্যয়বহুল হলেও লাভজনক। এক্ষেত্রে ক্ষতিকর লালমাকড়, চায়ের মশা, লোভার পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করতে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন।