সাভারে এমপির বাসা থেকে ৩ হনুমান জব্দ, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে হস্তান্তর

প্রকাশিত: ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ৪, ২০২২

সাভারে বিপন্ন প্রজাতির তিনটি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি দল। শনিবার (২ জুলাই) দুপুরে অভিযান চালিয়ে সাভারের কবিরপুর এলাকায় গড়ে তোলা ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের বাগান বাড়ি থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।

পরে রাতেই গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হনুমানগুলো হস্তান্তর করা হয়। ওই বাগান বাড়িতে বৈধভাবে হরিণ উটপাখি লালনপালন করলেও হনুমানগুলো ছিল অবৈধ।

প্রথমে দিতে রাজি না হলেও পরে বন্য প্রাণী আইন সম্পর্কে বাগান বাড়িতে থাকা কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলে তারা হনুমানগুলা হস্তান্তর করেন বলে নিশ্চিত করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রাণী পরিদর্শক নিগার সুলতানা।

নিগার সুলতানা জানান, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন বাগান বাড়িতে হরিণ লালনপাল করার অনুমতি থাকলেও বিপন্ন প্রজাতির মুখ পোড়া হনুমান পালনের কোনো অনুমতি নেই। মুখপোড়া হনুমান বিপন্ন হওয়ায় এটা ধরা লালন পালন করা নিষিদ্ধ। এটি সংরক্ষিত প্রাণী। আমাদের দেশের লাউয়াছড়া, সাতছড়িসহ বেশ কিছু বনাঞ্চলে মুখ পোড়া হনুমান দেখা যায়। তবে এটি সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় লিপিবদ্ধ। এরা বেশ শান্ত স্বভাবের। পাহাড়ি অঞ্চলের উঁচু উঁচু গাছে এদের বসবাস। এরা মাটিতে নামতে তেমন পছন্দ করেন না। গাছে বসেই হনুমানেরা ফলমূল খেয়ে থাকে। শান্ত প্রকৃতির প্রাণী মুখপোড়া হনুমান। এখন প্রকৃতি থেকে এই হনুমান অনেক কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, মুখপোড়া হনুমানগুলো সাফারি পার্কে কোয়ারেন্টাইনে রাখা আছে। এদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে একটি নিরাপদ বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হবে। এদের কোনো খাঁচায় রাখার বিধান না থাকায় বাধ্যতামূলক তাদের অনুকূলে থাকা বনে ছাড়তে হবে। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া তিনটি মুখপোড়া হনুমানই পুরুষ ছিল। তাই দ্রুত সময়ে এদের বনে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সঙ্গী খুঁজে পায়। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তিনটি হনুমান বুঝে রাখেন বলেও নিশ্চিত করেন নিগার সুলতানা।

সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বন কর্মকর্তাদের জানান, কয়েক বছর আগে হিলট্র্যাক থেকে তাকে এক ব্যক্তি মুখপোড়া হনুমানের চারটি বাচ্চা সরবরাহ করেছিলেন। একটি বাচ্চা অবস্থায় মারা গিয়েছিল। বিপন্ন প্রজাতির এই হনুমান লালন-পালন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের আইন সম্পর্কে তার জানা ছিল না।