সয়াবিন চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে নোয়াখালী

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৫, ২০২২

নোয়াখালীর সুবর্ণচর, সদর, কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া ও কবিরহাট উপজেলায় চলতি বছরে ১৩হাজার ২০৭ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সয়াবিনের ফলন ভালো ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় ৭হাজার ৪৪৫ হেক্টর, সদরে ৫হাজার ৬০০ হেক্টর, কোম্পানীগঞ্জে ৭০ হেক্টর, হাতিয়ায় ৬২ হেক্টর ও কবিরহাটে ৩০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১হাজার মেট্রিকটনের বেশি। যেখানে জেলায় গত মৌসুমে ১২হাজার ২৬৩ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের ফলন হয়েছিল ১৮হাজার ৩৯৪ মেট্রিকটন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত সোহাগ, বারি সয়াবিন-৫ ও বারি সয়াবিন-৬ এ অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষনা ইউষ্টিটিউট (বিনা) কর্তৃক উদ্ভাবিত বিনা সয়াবিন-৩ ও বিনা সয়াবিন-৫ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক উদ্ভাবিত বিএইউ-১, বিএইউ-২ বর্তমানে চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
জেলায় চাষাবাদ সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বারি, বিনা, সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, সলিডারিডাড এশিয়া’সহ অনেকগুলো অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জাত উন্নয়ন, উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রশিক্ষন, প্রদর্শনী, খামার যান্ত্রিকীকরনের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও ঋণ সহায়তা প্রদান করে থাকে।

এ জেলায় সয়াবিন একটি সম্ভাবনাময় ফসল। আমিষ ও ভোজ্য তেল উৎপাদনে সয়াবিন এখন অনেক দেশেই একটি প্রধান ফসল। এখানে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড থাকে বিধায় হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্ত চাপ রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারি। সয়াবিন ডাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পিয়াজু, বড়া, দুধ, চাপাতি, পরটা, বিস্কুট, পিঠাসহ আরও অনেক খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় সয়াবিন। বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পে সয়াবিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলার কয়েকজন সয়াবিন চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর জেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় সয়াবিন ক্ষেতে বিচা পোকার (পাতা খেকো পোকা) আক্রমন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল কৃষকরা। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠের সবুজ ফসল সয়াবিন গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়েছিল কৃষকদের স্বপ্ন, যার ফলে কাঙ্খিত ফলন থেকে বঞ্চিত হয়েছিল স্থানীয় চাষীরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে পোকার আক্রামণ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

সুবর্ণচর চর, চর মজিব, চর পানাউল্যা গ্রামের একাধিক চাষী জানান, চলতি বছরে সয়াবিনের ফলন ভালো হবে আশা করছেন তারা। কয়েকটি ক্ষেতে বিচা পোকার আক্রমনে কিছু গাছ মরে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের ক্ষতি পুঁষিয়ে তুলতে পারবেন বলে আশা তাদের।

বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষনা ইউষ্টিটিউট (বিনা) এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, সাধারণত সয়াবিনির বীজ বপনের ১০০দিনের মধ্যে ফলন তোলা যায়। চাষীদের বীজ বপনের সময়ের ওপর নির্ভর করে ফলন আগে পরে আসে। আমরা সুবর্ণচরের একাধিক ইউনিয়নে গিয়ে অনেকগুলো সয়াবিনের ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। চলতি মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে ফসলের অবস্থা ভালো দেখতে পেয়েছি।