১৩টিতে স্থগিত, চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কে কত ভোট পেলেন

চট্টগ্রামে নৌকা ১৭, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ১৫

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ২৯, ২০২১

তৃতীয় ধাপে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১৭টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, বিদ্রোহী ৪টিতে এবং স্বতন্ত্র ১১ প্রার্থী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩ ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ৯ ইউনিয়নে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া গতকাল রোববার মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। হাটহাজারীতে আ. লীগের ৭ জন, স্বতন্ত্র ৬ চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন। রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী লীগ ৩টিতে এবং বিদ্রোহী প্রার্থী দুটিতে জয়ী হয়েছেন। কাপ্তাইয়ের একটি ইউনিয়নে হওয়া ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

চকরিয়ায় একটি ইউনিয়নে ঘোষণা করা ফলাফলে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বাকি নয়টিতে ঘোষণা করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। পেকুয়ায় একটি আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র ৩ ও একটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও মহালছড়ির সাত ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়নি। বাকি তিনটির একটি বিদ্রোহী, একটিতে নৌকা এবং এক ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অন্য একটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্র্বাচিত হয়েছিলেন নৌকার প্রার্থী। রাঙামাটির কাউখালীতে চারটি ইউপির মধ্যে তিনটিতে নৌকার প্রার্থীর জয় পেয়েছেন। একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় এসেছে। বিনা ভোটে নৌকা প্রতীকের ২ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন।

হাটহাজারীতে আ. লীগের ৭ জন, স্বতন্ত্র ৬ : হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, হাটহাজারীতে আওয়ামী লীগের ৭ জন ও স্বতন্ত্র ৬ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে একজন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে পুরাতন ৫ জন ও নতুন ৮ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন মির্জাপুরে আকতার হোসেন খাঁন সুমন, গুমানমর্দ্দনে মুজিবুর রহমান, মেখলে মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী, গড়দুয়ারায় মো. সরোয়ার মোরশেদ তালুকদার, উত্তর মাদার্শায় শাহিদুল আলম, ফতেপুরে মো. জয়নুল আবেদিন, চিকনদন্ডীতে হাসানুজ্জামান বাচ্চু, দক্ষিণ মাদার্শায় মো. সরোয়ার চৌধুরী। ছিপাতলীতে বিএনপি সমর্থিত নূরুল আহসান লাভু বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিজয়ীরা হলেন ধলইয়ে মো. আবুল মনসুর, নাঙ্গলমোড়ায় হারুনুর রশিদ, ১৪ নং ইউপিতে এম এ খালেদ ও বুড়িশ্চরে জাহেদ হোসাইন।

কে কত ভোট : ধলইয়ে আবুল মনসুর (আনারস) ৯২০০, শাহ নেওয়াজ (নৌকা) ৬৭৬৭। মির্জাপুরে আকতার হোসেন খান সুমন (নৌকা) ৫৬৫৯, এনমান তালুকদার (আনারস) ৫৩৫৩। গড়দুয়ারায় মো. সরওয়ার মোরশেদ তালুকদার (নৌকা) ৩৮৮১, আবদুল মাবুদ তালুকদার (আনারস) ১৩৪৬। উত্তর মাদার্শায় শাহেদুল আলম শাহেদ (নৌকা) ৬৬৯০, হাজী মহসিন (আনারস) ১৯৯২। ফতেপুরে মো. জায়নুল আবেদীন (নৌকা) ১৩৮২৭, জাকের হোসেন (আনারস) ২৬০৯। চিকনদন্ডীতে হাসানুজ্জামান বাচ্চু (নৌকা) ৬৮৫৬, জহুরুল আলম (চশমা) ৫০৪৭। দক্ষিণ মাদার্শায় মো. সরওয়ার চৌধুরী (নৌকা) ৫৬৪৯, আকতার হোসেন (চশমা) ৩১৭৭। মেখলে মো. সালাউদ্দীন চৌধুরী ও গুমানমর্দনে মো. মুজিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নাঙ্গলমোড়ায় মো. হারুনুর রশীদ (আনারস) ১৯৮৫, সিরাজুল হক বাবুল (ঘোড়া) ১০৯৯। ছিপাতলীতে নুরুল আহসান লাভু (আনারস) ৩১৭৫, জয়নাল আবেদীন জসিম (নৌকা) ১০২২। শিকারপুরে এম এ খালেক (আনারস) ৪৭৩১, আবু বক্কর সিদ্দিক (নৌকা) ৩৬০৬। বুড়িশ্চরে মো. জাহেদ হোসাইন জাহেদ (আনারস) ৩৯৮৩ ও মো, রফিক (চশমা) ৩৬৩৯ ভোট পেয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় আ. লীগ তিনটি, বিদ্রোহী দুটি : রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গুনিয়ায় ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও দুটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৮ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়। এতে ইসলামপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী সিরাজুল উদ্দিন চৌধুরী ৭ হাজার ৫৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সিরাজুদ্দৌলা দুলাল (আনারস) পেয়েছেন ৭৪ ভোট। দক্ষিণ রাজানগরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহমদ ছৈয়দ তালুকদার (নৌকা) ৭ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এনামুল হক মিয়া (আনারস) পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৬ ভোট। হোসনাবাদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দানু মিয়া (নৌকা) পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা জসিম উদ্দিন (আনারস) পেয়েছেন ৬০৫ ভোট। লালানগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম তালুকদার (আনারস) ৪ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের মীর তৌহিদুল ইসলাম কাঞ্চন পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৭ ভোট। বেতাগী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিউল আলম (আনারস) ৬ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নূর কুতুবুল আলম পেয়েছেন ৩ হাজার ৬১৬ ভোট।

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে আ. লীগের জয় : কাপ্তাই প্রতিনিধি জানান, কাপ্তাই উপজেলার ৩ নং চিৎমরম ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়েশ্লিমং চৌধুরী (নৌকা) ১৭৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অপর প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান খাইসা অং মারমা (টেবিল ফ্যান) পেয়েছেন ১৪৫১ ভোট। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন।
চকরিয়া : চকরিয়ার দশ ইউনিয়নের মধ্যে কেবল একটির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে জয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী ফারহানা আফরিন মুন্না।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম গত রাত ১২টায় আজাদীকে বলেন, সব কেন্দ্র থেকে ফলাফল না পাওয়ায় নয়টি ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী মঙ্গলবার ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
পেকুয়ায় আওয়ামী লীগ ১, স্বতন্ত্র ৩ ও বিদ্রোহী ১ : পেকুয়া প্রতিনিধি জানান, পেকুয়ার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলেও বারবাকিয়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে সহিংসতার পর একটি কেন্দ্র স্থগিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।

উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাহাদুর শাহ (চশমা)। তিনি পেয়েছেন ৮৩৩৭ ভোট। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৯৫৩ ভোট। মগনামা ইউনিয়নে লড়াই হয়েছে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। ২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ইউনুছ চৌধুরী (ঢোল)। তিনি পেয়েছেন ৫২৭০। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম পেয়েছেন ৫২৪৫ ভোট। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজেম উদ্দিন নাজু পেয়েছেন ১৪৫ ভোট। উজানটিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জল করিম চৌধুরী। তিনি ৩৬১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ২০৪৬ ভোট। শিলখালীতেও লড়াই হয়েছে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। কামাল হোছাইন ২৩৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন টেলিফোন মার্কায় পেয়েছেন ১৯৫৮ ভোট। এই ইউনিয়নে নৌকার কাজিউল ইনছান পেয়েছেন ১৮৪৬ ভোট। রাজাখালীতে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ৪২১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ূন কবির পেয়েছেন ৩৭৮১ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূর পেয়েছেন ৩৬০৯ ভোট।

বারবাকিয়ায় ৮ কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিএম আবুল কাশেম পেয়েছেন ৪৩৯১ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মওলানা বদিউল আলম চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৪০৭১ ভোট। স্থগিত কেন্দ্রের পুনঃভোট গ্রহণের সময় এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

দীঘিনালা ও মহালছড়ি : খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও মহালছড়ির ৭ ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। দীঘিনালার তিন ইউনিয়নের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতার কারণে কবাখালি ও মেরুং ইউনিয়নের দুটি করে ৪টি ভোট কেন্দ্রে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এ কারণে চেয়ারম্যান পদে কাউকে জয়ী ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়া মহালছড়ির মাইসছড়ি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানেও চেয়ারম্যান প্রার্থীর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, পুনঃনির্বাচনের মাধ্যমে এসব কেন্দ্রে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

দীঘিনালার বোয়ালখালি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চয়ন বিকাশ চাকমা (আনারস) পেয়েছেন ৮১৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মোস্তাফা (নৌকা) পেয়েছেন ৩৯০৭ ভোট। টানা তৃতীয়বার চেয়ারম্যান হন চয়ন।

মহালছড়ির সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী রতন কুমার শীল। তিনি পান ৭৩৪৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের প্রার্থী লেব্রোচাই মারমা পেয়েছেন ১৩৪৪ ভোট। উপজেলার মুবাছড়ি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাপ্পী খীসা। তিনি পান ৩৯৫২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার কংজরী চৌধুরী পান ৮শ ভোট। এর আগে কেয়াংঘাট ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্র্বাচিত হন নৌকার রুপেন্দু দেওয়ান।

কাউখালীতে তিনটি নৌকার, স্বতন্ত্র ১ : রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, কাউখালীর বেতবুনিয়া ইউনিয়নে অংক্যজ চৌধুরী ও কলমপতি ইউনিয়নে ক্যজাই মারমা বিনা ভোটে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান হয়েছেন। গতকাল অনুষ্ঠিত অপর দুটি ইউনিয়নের মধ্যে ঘাগড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন এবং ফটিকছড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) উষাতন চাকমা বেসরকারিভাবে নিবাচিত হয়েছেন।