ভারতে জেল খেটে ৯ মাসে দেশে ফিরেছে শতাধিক নারী

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১৩, ২০২১

ভাল কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অবাধে চলছে নারী, কিশোরী ও তরুণী পাচার। এসব পাচার করা নারীরা কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে, কে দেবে চাকরি- এসব কিছুই জানেন না। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় পাচারকারী সিন্ডিকেট চাকরিসহ নানা লোভ দেখিয়ে ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নারীদের বিক্রি করে দিচ্ছে ভারতীয় সিন্ডিকেটের কাছে। 

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও রাইটস যশোর নামের দুই বেসরকারি সংস্থার তথ্য থেকে জানা যায়, ভারতে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ভারতের সরকারি ও বেসরকারি সেফহোমে এখনো কয়েকশ’ বাংলাদেশী নারী রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৮টি রুট দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার নারী, শিশু ও কিশোরী ভারতে পাচার হচ্ছে। গত নয় মাসে ভারতের বিভিন্ন শহরে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে ২ থেকে ৫ বছর জেল খেটে বেনাপোল চেকপোস্ট হয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় শতাধিক নারী, কিশোরী ও তরুণী।

এর মধ্যে গত ২৫ জানুয়ারি বেনাপোল দিয়ে ফেরত আসে ২৮ কিশোরী, ১৯ মার্চ আসে ৮ নারী, ২ সেপ্টেম্বর ৭ তরুণী, ২০ সেপ্টেম্বর ১৬ কিশোরী ও নারী, ৩০ সেপ্টেম্বর ১২ তরুণী ও সর্বশেষ ৭ অক্টোবর ফেরত আসে ১১ জন কিশোরী।

পাচার হওয়া মেয়েদের বেশির ভাগেরই পারিবারিক অবস্থা খুব খারাপ। ভালো কাজের টোপ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। তারপর ভারতে নিয়ে শুরু হয় অত্যাচার। দেশে ফেরার পথও বন্ধ হয়ে যায় তাদের।

পাচার হওয়া অনেকে সে দেশে আটক হয়ে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার শেল্টার হোমে থাকে। তারপর দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের নাম পরিচয় যাচাই করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন বেসরকারি আইনি সহায়তা দেওয়া এনজিওগুলো সরকারের মাধ্যমে ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনে।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক বেগম সালমা আলী জানায়, বিগত ১০ বছরে ভারতে পাচার হওয়া ২ হাজার নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফিরে আসা নারীদের খুব কমই তাদের অভিজ্ঞতা অন্যদের জানায়। অনেকের হয়তো বলার মতো মানসিক অবস্থাও থাকে না। এর পেছনে কাজ করে সমাজ, পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছে হেয় হবার ভয়। কারণ, অনেক নারী ফিরে এসে সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে আবারও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। অনেকেই ভোগেন অনিরাপত্তায়। পারিবারিকভাবে সমর্থন না পাওয়ায় অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আবার হতাশ হয়ে পড়ছেন।

পাচার নারী ও শিশুদের ফিরিয়ে আনার কাজ করে যশোরের মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোর। ওই সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক জানান, ভারতের বিভিন্ন হোমে বাংলাদেশি অনেক নারী ও তরুণী দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছে। আমরা দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানিয়েছি। আটকে থাকা নারী ও তরুণীর নাম ঠিকানা পরীক্ষা করা হচ্ছে। খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান জানান, পাচারকারীরা যখন ফেরত আসে তখনই জানা যায় এরা পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে ভারতে গিয়েছিল। কিন্তু মামলা করার কথা বললে কেউ এগিয়ে আসে না। মানব পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় লোকজন নিয়ে সভা করেছি। তারপরও তা রোধ করা যাচ্ছে না।