একাধিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণা, নারী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ , জুন ১২, ২০২১

ভোলায় একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণা করায় বেগম নূর নাহার নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে ভোলা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাগর বেকারি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মিজানুর রহমান খান নূর নাহারের বিরুদ্ধে ভোলা সদর থানায় একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করায় জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতারকৃত নূর নাহার সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কালুপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কাজল ইসলাম জানান, নূর নাহার নামের ওই নারী একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচন অফিসার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আলোকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, নূর নাহার ২০১২ সালে প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। সেখানে নিজের নাম নূর নাহার, পিতা- রফিকুল ইসলাম, মাতা- হনুফা বিবি, স্বামী- মো. মহিউদ্দিন, জন্ম তারিখ- ০১/০১/১৯৯১ইং, পেশা- গৃহিণী, ঠিকানা- কালুপুর, ১নং ওয়ার্ড, ইলিশা ইউনিয়ন উল্লেখ করেন।

দ্বিতীয় বার ২০১৭ সালে একই ছবি ব্যবহার করে নাম ঠিকানা পরিবর্তন করে আবারও জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। সেখানে নিজের নাম উল্লেখ করেন তামান্না আকতার, পিতা- শামসুল হক দুলাল, মাতা- মনোয়ারা বেগম, জন্ম তারিখ- ১০/০৫/১৯৯৭ইং, পেশা- ছাত্র/ছাত্রী, ঠিকানা- ভোলা পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ড, পশ্চিম উকিল পাড়া,  ভোলা সদর।

এছাড়াও নূর নাহারের বিরুদ্ধে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক বিয়ে ও প্রতারণা করারও অভিযোগ রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এর আগে ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর তার পূর্বের স্বামী মো. মহিউদ্দিন নূর নাহারের বিরুদ্ধে প্রতারণা করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন। সে সময় মহিউদ্দিন জানান, ২০০৮ সালে নূর নাহারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্ত্রীর অশালীন চলাফেরা ও একাধিক পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় ২০১১ সালে তার সাথে ডিভোর্স হয়ে যায়। এর পরও নূর নাহার তাকে ১০টি মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে নূর নাহার তামান্না আকতার নামের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্য একটি বিয়ে করে।

মামলার বাদী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মিজানুর রহমান খান জানান, এই নারী তথ্য গোপন করে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র বহন করেন। যা আইন পরিপন্থী। সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে এই নারীর সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর ভোটার তালিকা আইন-২০১০ এর ১৪ এবং ১৫ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণের দায়ে গ্রেফতার নূর নাহারকে আজ শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।