যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে রাতারাতি সেলিব্রিটি

রানু মণ্ডলের দিন কাটছে অনাহারে!

প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ , জুন ১২, ২০২০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে রাতারাতি সেলিব্রিটি বনে যান রানাঘাটের রানু মণ্ডল। গান গেয়ে বস্তি থেকে সুযোগ পেয়ে যান মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার দুনিয়ায়। বলিউডের সিনেমাতেও গান গেয়েছেন। চাকচিক্য জীবন শুরু হয় রানুর। তবে, এক বছর পাড় না হতেই সেই সুখে ভাটা লেগেছে। এখন অভাবে কাটছে তার দিন। 

রাতারাতি যেমন সেলিব্রিটি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। আবার খুব তাড়াতাড়ি যেন গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড থেকে মুছে গিয়েছে রানু মন্ডলের নাম। তাই আবার সেই রানাঘাটের প্ল্যাটফর্মের কাছে নিজের ছোট্ট ঘরেই আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এখন রোজ দু’বেলা পেট ভরে খেতেই রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রানু মণ্ডলকে। আগের মতোই অনাহারে দিন কাটছে তার। মাঝেমধ্যে চিঁড়ে মুড়ি খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

অথচ কিছুদিন আগেও করোনার দুর্যোগের প্রথমদিকে রানু মণ্ডলও দাঁড়িয়েছিলেন অসহায় মানুষদের পাশে। নিজের এলাকার গরিবদের মাঝে চাল, ডাল বিতরণ করেছেন তিনি। সেই রানু মন্ডলই এবার অভাবের মধ্যে পড়েছেন।

এখন পাড়া-প্রতিবেশী যদি মাঝেমধ্যে চাল-ডাল দেন তাহলে কোনভাবে দিন চলে যায় রানুর। নচেৎ না খেয়ে পুরো দিনও থাকতে হচ্ছে রানু মণ্ডলকে। করোনার এই আবহে আগের মতো কেউ খোঁজ নিতে আসে না, তার জন্যই কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে এই গায়িকাকে।

২০১৯ সালের আগাস্ট মাসে রানুর একটি গান রাতারাতি ভাইরাল হয়। দেখা যায়, রানাঘাট স্টেশনে ভিখারিনীর বেশে বসে গান গাইছেন রানু। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই অনেকেই তাকে ‘লতাকণ্ঠীর’ তকমাও দেন।

বলিউডের সঙ্গীত পরিচালক হিমেশ রেশমিয়ার নজরে পড়ে যান রানাঘাটের এই গায়িকা। হিমেশ ‘হ্যাপি হার্ড অ্যান্ড হীর’ ছবিতে একটি গান গাওয়ার প্রস্তাব দেন রানু মণ্ডলকে। হিমেশের সুরে রানুর গলায় ‘তেরি মেরি কাহানি’ গানটির এক লাইন শুনেই মুগ্ধ হয়েছিলেন নেটিজেনরা।

হিমেশ রেশমিয়ার পরিচালনায় তিনটি গানে সুর তোলেন রানাঘাটের রানু। প্রথম গান ‘তেরি মেরি কাহানি’র প্রবল জনপ্রিয়তার পর হিমেশের বিখ্যাত ‘আশিকি মে তেরি’-র রিমেক গাইলেন রানু। তারপর ‘হ্যাপি হার্ডি এন্ড হীর’ ছবির ‘আদত’ গানটিও গেছেন রানু মন্ডল।