রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে কোভিড হাসপাতালগুলো

প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ণ , এপ্রিল ১৫, ২০২১

হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যু। তৈরি হয়েছে আইসিইউ সংকট। মিলছে না সাধারণ শয্যাও। রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো। সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন হওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

কোভিড আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসার পর, স্বজনদের গল্পগুলো এখন এক সুতোঁয় গাঁথা হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন যে, বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও রোগী ভর্তি করাতে পারছেন না, অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

রোগীর স্বজনরা জানান, চিকিৎসা ভালো হচ্ছে কিন্তু সিট পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে অনেক রোগী আসে, সীট নাই। এভাবে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে, কিছুই করার থাকবে না তখন। বুলডোজার দিয়ে নিয়ে মেলতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কিংবা সুপারিশ ছাড়া সোনার হরিণ আইসিইউ শয্যা। সেবা নিয়ে অভিযোগ না থাকলেও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুবিধার সংকটে ভোগান্তি বাড়ছে, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, আইসিইউ যাদের দরকার তাদেরকে ৬৫ থেকে ৭০% পর্যন্ত অক্সিজেন বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আইসিইউ’র  সংকট আছে। খুবই হাই রেফান্সের প্রয়োজন, দুই একটা থাকলে তারাই শুধু পাচ্ছেন। আরেকজন জানান, অনেকের দাঁড়ে দাঁড়ে ঘুরে একটা বেড পেয়েছি। আমাদের কপাল ভালো যে একটা বেড পেয়েছি, অনেক মানুষ আসছেন কিন্তু বেড পাচ্ছেন না। বেডের সংকট।

প্রতিদিন বাড়ছে করোনায় মৃত্যু। সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, সংক্রিমত যখন আমি বুঝলাম, টেস্ট করে দেখলাম আমি পজিটিভ। তখন কিন্তু সাথে সাথে সিসুয়েশন দেখেন, সিসুয়েশন কমে যাচ্ছে। আমাদের কাছে আসে ৭০-এর নীচে আসার পর। এই অবস্থায় সুযোগ থাকলেও আমরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারি না। এখন আমরা বলতে যাচ্ছি, ৯২-এর নীচে আসলে পরে যদি অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া যায় তাহলে অধিকাংশ লোকই ভালো হয়ে বাসায় চলে যাবেন।

লক্ষণ, উপসর্গ দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক বলেন, শনাক্ত রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসার আওতায় আসতে হবে। তাদেরকে আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। এটা সরকার এবং সামাজিক শক্তিকে এটা নিশ্চিত করতে হবে। প্রান্তিক মানুষদের আইসোলেশন নিশ্চিত না করা গেলে সংক্রমণ কিন্তু আমরা থামাতে পারবো না।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই বলেও মত বিশেষজ্ঞদের। ## ETV