স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ভোলায় উসাস’র নানা আয়োজন

প্রকাশিত: ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ২৮, ২০২১

স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে উপকূল সাহিত্য সংসদ’র  উদ্যোগে ২৬ মার্চ শুক্রবার সকালে  ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর পাড় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রাণোবন্ত অনুষ্ঠানে উদযাপন করা হয় নানা কর্মসূচি। 

উসাস’র সহ-সভাপতি এম, অলিউল্যাহ্ হাসনাইনের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশু হাফেজ সাকিবুল হাসান কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।
স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর ওপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন,  উসাস’র সাহিত্য সম্পাদক কবি এরশাদ সোহেল। তিনি স্বরচিত কবিতা “স্মৃতির দহন”ও আবৃত্তি করে শোনান।
অনুষ্ঠানের ঠিক মাঝামঝি সময়ে মঞ্চে আসেন দুইবাংলার জনপ্রিয় কবি নীহার মোশারফ। তিনি উপকূল সাহিত্য সংসদ’র ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান।
আলোচনায় আরো অংশ নেন,তজুমদ্দিন সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক, উসাস সহ-সভাপতি এম এস জালাল বিল্লাহ,উসাস উপদেষ্টা ও হাফিজ ইব্রাহীম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  জাকারিয়া আজম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইন্সট্রাক্টর  মো. জাহাঙ্গির আলম,সৃজনশীল লেখক মো. ওমর ফারুক সুহান, রক্তিম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি কে. এইচ মাতাব্বর,উসাস’র সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম, লেখক খন্দকার ইব্রাহীম, প্রবাসী সংগঠক মো. হারুন অর রশীদ, লালচান খ্যাত লেখক নুরুল আমিন প্রমুখ।
এরপর “মুজিব বাইয়া যাওরে… “জনপ্রিয় এগানটি দরদি কন্ঠে পরিবেশ করে শ্রোতাদের মনে দোলা দেন শিল্পী সুজিত চন্দ্র দে।বাশের বাঁশির মরমি সুরে যখন বেজে ওঠে “ও কী গাড়িয়াল ভাই….. “গানটি তখন নির্লিপ্ত মূর্চ্ছনায় যেনো গ্রামীণ জনপদের মেঠোপথে হারিয়ে যায় অনুষ্ঠানের দর্শক ও শ্রোতা। নতুন প্রজন্মের
শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের সাথে “ত্রিভূবনে প্রিয় মোহাম্মদ…  “গানটি শ্রোতারা বেশ উপভোগ করেন এবং যৌথভাবে গাইতে থাকেন।
শিশু শিল্পী হাফেজ সাকিব আল হাসান গাইলেন অসাধারণ দুইটি দেশের গান। এতো অল্পবয়সে পেশাদার শিল্পীর মতোই গান করে সবার অকুন্ঠ ভালোবাসা জয় করলো ছোট্ট সোনামণি।
কন্ঠশিল্পী না হয়েও রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে সবাইকে অবাক করলেন এম এস জালাল বিল্লাহ।এরপর “সগৌরবে তুমি এলে” এবং “কদাকার রূপে সাজ” তাঁর লেখা কবিতা পাঠ করে শোনান তিনি নিজেই।
স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর মহতী অনুষ্ঠানকে প্রাণোবন্ত ও আনন্দমুখর করে তোলেন উপকূল সাহিত্য সংসদের স্বপ্নদ্রষ্টা সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. তাহেরুল আলম। তাঁর সাবলিল ভাষাশৈলি ও হাস্যোজ্জ্বল সঞ্চালণায় পুরো অনুুষ্ঠানটি সবাই দারুণভাবে উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্বের সভাপতি কবি নীহার মোশারফ যখন সমাপণি ভাষণে সবাইকে বিদায় জানালেন তখন মসজিদে জুম্মার নামাযের আযানের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছিলো। উপস্থিত সকলে ভোলার বাংলাবাজার জামে মসজিদে নামাজ শেষে যুবউন্নয়ন ভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।যুব উন্নয়নের সাদামনের কর্মকর্তা জাহাঙ্গির আলমের মনকাড়া আতিথিয়েতা আর সাদাভাতের সাথে দেশি মুরগি, রকমারি সবজি, ঘণডালে প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ।
তৃষিত হৃদয়ে তৃষ্ঞা থেকেই গেলো সবার। আহা!  আর একটু সময় হলে তেঁতুলিয়ার প্রান্তরের উসাস’র সাহিত্য আড্ডায় আরো কতো না ফুল ফুটতো,কতো কবিতা-গানে মুখরিত হতো বাকিটা সময় !