যে কারণে ৩৬ বছর ধরে ভাত খান না জোহরা বেগম

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৫, ২০২১

জোহরা বেগম সাতক্ষীরার শহরতলী কুখরালী গ্রামের বাসিন্দা। বয়স ৮৫ বছর পেরিয়েছে। তার ১৫ সন্তান ছিল। এরই মধ্যে ৫ জন সন্তান মারা গেছেন। তবে এলাকায় সকলের খুব পছন্দের মানুষ তিনি।

অবাক করার বিষয় হলো জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় ভাত না খেয়ে কাটিয়েছেন জোহরা বেগম। এখন চা-বিস্কুট খেয়ে দিন কাটে তার। ভাত না খেয়ে থাকার বিষয়টি পরিবারের কাছে স্বাভাবিক। তবে অন্যদের কাছে তার এত বছর ভাত না খেয়ে থাকার বিষয়টি আশ্চর্যজনক মনে হয়।

এই বিষয়ে জোহরা বিবির বড় ছেলে নুর ইসলাম মোড়ল জানান, ছোটবেলা থেকে তার মায়ের পেটে একটু ব্যথা ছিল। ১৯৮৩ সাল থেক ১৯৮৪ সালের দিকে পেটের যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। তখন মাকে ডাক্তারের কাছে নিলে ডাক্তার জানান, টিউমার হয়েছে। অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু আমার মা অপারেশন করাতে রাজি হয়নি। পরে ডাক্তারের ওষুধ খান এবং ভাত খাওয়া বাদ দেন তিনি। এতে মায়ের পেটের যন্ত্রণা ধীরে ধীরে কমে যায়।

অন্যদিকে ভাত না খেয়ে থাকার বিষয়ে জোহারা বিবি বলেন, ‘আমার বাবা মান্দার মোড়ল ভারতের বশিরহাট থানার মেজ দারোগা ছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সাকচুড়া গ্রামে ছিল আমাদের বাড়ি। ছোটবেলায় ববা আমাকে মোড়ল পরিবারে বিয়ে দেন। আমার বয়স যখন ১৩ বছর তখন আমার বড় ছেলের জন্ম হয়। আল্লাহ আমার ১৫ জন সন্তান দিয়েছেন।’

‘আমার ছোট ছেলের জন্মের দুই তিন বছর পর আমার পেটে অনেক যন্ত্রণা হতো। ছেলেরা বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পেট কাটতে হবে জানায়। তবে আমিতো পেট কাটব না। পেটের যন্ত্রণার কারণে আমার খাওয়া কমে যায়। তখন থেকে আমি শাক-সবজি, তরকারি আর মুড়ি খাওয়া শুরু করি। ভাত না খাওয়ায় পেটের যন্ত্রণা ধীরে ধীরে কমে যায়। তারপর থেকে আমি আর কোন দিন ভাত খাইনি।’